
অনন্তনাগ: কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের পাঁচটি বাড়ি আগুন! সোমবার রাতে, দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার মাত্তান এলাকায়, ওই বাড়িগুলিতে আগুন লাগে। পাঁচটি বাড়িই বহু পুরোনো বলে জানা গিয়েছে। রাতভর আগুনে এই বাড়িগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আগুন কোনোভাবে লেগেছিল, নাকি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে লাগিয়েছে, সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এই বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। তারা আগুন লাগার কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, কাশ্মীরের বাইরে বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের সদস্যদের অভিযোগ, আগুন লাগানোই হয়েছে। তাদের মতে, এটা কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়কে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা। তারা যাতে কাশ্মীর উপত্যকায় আর ফিরে না আসে, তার জন্য নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা তারই অংশ।
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহ করেছে। তদন্তের জন্য পুলিশ ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও বাজেয়াপ্ত করেছে। দক্ষিণ কাশ্মীর রেঞ্জের ডিআইজি, জাভেদ ইকবাল জানিয়েছেন, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়েই মাত্তানের এসএইচও পুলিশ বাহিনী এবং দমকল বাহিনীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রথমে একটি বাড়িতেই আগুন লেগেছিল। সেখান থেকে বাড়িগুলিতেও ছড়িয়ে পড়ে আগুন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের এক পদস্থ কর্তাকে এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
একেবারে পুড়ে ছাই পন্ডিতদের বাড়ি
কাশ্মীর শারদাপীঠ আস্থাপনের সভাপতি, রবীন্দ্র পণ্ডিত জানিয়েছেন, ওই বাড়িগুলির বাসিন্দারা সকলেই বাইরে থাকেন। তাঁরা কাশ্মীরি উদ্বাস্তু। তাঁদের সম্পত্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যথেষ্ট সন্দেহজনক। যেহেতু বাড়িগুলিতে কেউ থাকত না, তাই শর্ট সার্কিট বা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগার কোনও সম্ভাবনা নেই। তাই এটা স্পষ্ট নাশকতার ঘটনা। তাঁর অভিযোগ, সংখ্যালঘু সম্পত্তির রক্ষা করার দায়িত্ব জেলার ডেপুটি কমিশনারের। তিনি যথাযথ পদক্ষেপ করছেন না। এই অবস্থায় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তিগুলি সুরক্ষার জন্য পদক্ষেপ করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। পুড়ে যাওয়া বাড়িগুলির মালিকদের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিও করেছেন তিনি। কাশ্মীরি পন্ডিত সম্প্রদায়ের একাধিক সংগঠন জানিয়েছে, উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদ এখনও খতম হয়নি। তবে এই ঘটনাগুলিতে তারা ভীত নয়। মুসলিম ভাইদের নিয়ে তারা নিজ দেশেই থাকবেন।
শুধু পণ্ডিত সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলিই নয়, জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতৃত্বও এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। মাত্তানের ঘটনা সম্পর্কে ন্যাশনাল কনফারেন্স দল জানিয়েছে, এই ঘটনা মর্মান্তিক। বিশেষ করে আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়িগুলির মধ্যে একটি নিয়ে তাদের গভীর আবেগ রয়েছে। ওই বাড়িটি ন্যাশনাল কনফারেন্স দলের অতিরিক্ত মুখপাত্র, উমেশ তালাশির জন্মভিটে ছিল। তাই এই বাড়িটির সঙ্গে তাঁদের দলের গভীর যোগ রয়েছে। বাড়িটির ক্ষতি হওয়া তাদের কাছে অত্যন্ত আবেগের বিষয়। এই ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত দাবি করেছে ওমর আবদুল্লার দল।