
নয়া দিল্লি: নির্বাচনে রাজনীতিতে প্রবেশ করতে চলেছেন প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজের কন্যা বাঁসুরি স্বরাজ। শনিবার বিকেলে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের জন্য ১৯৫ জনের প্রথম প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিজেপি। তালিকা অনুযায়ী, নয়া দিল্লি লোকসভা আসন থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সুষমা স্বরাজের মেয়ে। প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পরই, বাঁসুরি স্বরাজ জানিয়েছেন, তাঁর মা স্বর্গ থেকে তাঁকে আশীর্বাদ করছেন। জনসেবার যে মানদণ্ড সুষমা স্বরাজ স্থির করে দিয়ে গিয়েছেন, তিনি তাই বজায় রাখার চেষ্টা করবেন।
বাঁসুরি স্বরাজ বলেছেন, “আমি জানি আমার সঙ্গে মায়ের আশীর্বাদ আছে। কিন্তু এই কৃতিত্ব বাঁসুরি স্বরাজের নয়, দিল্লি বিজেপির প্রতিটি কর্মীর। আমি কৃতজ্ঞ বোধ করছি। আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং প্রতিটি বিজেপি কর্মীকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি । প্রত্যেক বিজেপি কর্মী ‘আব কি বার ৪০০ পার’-এর অঙ্গীকার নিয়ে নরেন্দ্র মোদীকে তৃতীয়বারের মতো ‘প্রধানসেবক’ করতে কাজ করবে।”
বাঁসুরি স্বরাজ, একজন বিশিষ্ট আইনজীবী। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হলেও, আইনি মারপ্যাঁচ সম্পর্কে প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। গত বছর, বিজেপি তাঁকে দিল্লির বিজেপি আইন সেলের সহ-আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ করেছিল। বর্তমানে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আইন অনুশীলন করেন। ২০০৭ সালে দিল্লির বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তাঁর নাম নথিভুক্ত হয়েছিল। আইন পেশায় তাঁর ১৫ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আইন নিয়ে পড়ার আগে অবশ্য তিনি ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তারপর, লন্ডনের বিপিপি আইন স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। ব্যারিস্টার হওয়ার পর, লন্ডনের ‘ইন অব ইনার টেম্পল’ থেকে বারে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট ক্যাথরিন কলেজ থেকে মাস্টার্স অফ স্টাডিজ ডিগ্রিও আছে তাঁর।
পেশাদার জীবনে প্রবেশের পর, বিভিন্ন বিতর্কিত মামলায় হাই-প্রোফাইল ক্লায়েন্টদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বাঁসুরি। কর্পোরেট চুক্তি, রিয়েল এস্টেট, কর, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ফৌজদারি আইনে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। গত বছর, জাতীয় রাজধানী অঞ্চল দিল্লি (সংশোধনী) বিল, ২০২৩ নিয়ে দিল্লির আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন বাঁসুরি স্বরাজ। আপ সরকারের ‘অদক্ষতা’র সমালোচনা করে তাদের ‘ঝগড়াটে এবং অকর্মা’ বলেছিলেন সুষমা স্বরাজের মেয়ে। বিলটি পাস হওয়ার পর, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন তিনি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এদিন দিল্লির সাত লোকসভা আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি। দেখা যাচ্ছে পাঁচজন বর্তমান সাংসদের মধ্যে চারজনকেই টিকিট দেওয়া হয়নি। নয়া দিল্লি আসন থেকে গতবার জিতেছিলেন বিদেশ ও সংস্কৃতি দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী মীনাক্ষী লেখি। আর দক্ষিণ দিল্লি আসন থেকে জিতেছিলেন রমেশ বিধুরি। লোকসভায় কটু ভাষা প্রয়োগ করে, গত বছর সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিলেন তিনি। দলের এই দুই উল্লেখযোগ্য নেতা, প্রথম প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। বাঁসুরি স্বরাজ ছাড়া, পশ্চিম দিল্লি থেকে প্রার্থী হয়েছেন কমলজিৎ শেরাওয়াত, চাঁদনি চক থেকে প্রবীণ খান্ডেলওয়াল এবং দক্ষিণ দিল্লি থেকে রামবীর সিং বিধুরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।