
ইম্ফল: ফের উত্তপ্ত মণিপুর। শান্তি চুক্তির এক মাসের মধ্যেই নতুন করে ছড়াল হিংসা। সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত এক মহিলা। আহত ওই মহিলার কন্যাসন্তান সহ কমপক্ষে ৯ জন। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ২ জন পুলিশকর্মীও। রাজ্য পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে দুটি আলাদা বিবৃতি পেশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দফতরের বিবৃতিতে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংঘর্ষের পিছনে কুকি জনগোষ্ঠী জড়িত বলেই প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের। জারি করা হয়েছে কার্ফুও।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার মণিপুরের পশ্চিম ইম্ফল জেলার কৌত্রাক এলাকায় সংঘর্ষ, গুলির লড়াই শুরু হয়। গ্রাম পঞ্চায়েতের চেয়ারম্যানের দাবি, গ্রামের ভলেন্টিয়াররা যখন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলি থেকে দূরে ছিলেন, সেই সময় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা গ্রামে ঢুকে পড়ে এবং নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। ড্রোনে করে গ্রামে অস্ত্র ও বোমা ফেলা হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে।
গুলির আঘাতে ৩৩ বছরের এক মহিলার মৃত্যু হয়। আহত তাঁর ১৩ বছরের মেয়েও। কিশোরীর ডান হাতে গুলি লেগেছে। পুলিশ সহ মোট ৯ জন আহত হয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে।
নতুন করে অশান্তি ছড়াতেই স্থানীয় প্রশাসনের তরফে পশ্চিম ইম্ফলে কার্ফু জারি করা হয়েছে। মণিপুর সরকারের তরফেও এই ঘটনার নিন্দা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কড়া শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং।
মণিপুর স্বরাষ্ট্র দফতরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কুকি দুষ্কৃতীরা ড্রোনের মাধ্যমে বোমা ও অস্ত্রশস্ত্র ফেলছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষ শুরু হয়। গুলিতে দুইদনের মৃত্যু হয়। আহত একাধিক।
মণিপুর পুলিশও এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানিয়েছে, যুদ্ধে ব্যবহৃত ড্রোন বোমা ফেলা হচ্ছিল। নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের উপরে হামলা চালানোর জন্যই এই অস্ত্রশস্ত্র আনা হচ্ছিল বলে অনুমান পুলিশের।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের মে মাস থেকেই উত্তপ্ত মণিপুর। সংরক্ষণ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণাকে কেন্দ্র করে কুকি ও মেতেই জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে সংঘর্ষ শুরু হয়, তা এখনও থামেনি পুরোপুরিভাবে। গত মাসেই দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তারপরও এই সংঘর্ষ।
আরও খবর পড়তে ডাউনলোড করুন Tv9 বাংলা অ্যাপ (Android/ iOs)