AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Science Powerhouse: ভারতের অর্থনীতির সঙ্গে হাত ধরাধরি করে এগোচ্ছে বিজ্ঞান-গবেষণাও, বলছে নেচার পত্রিকা

Nature Journal: নেচার লিখেছে, 'অর্থনৈতিক শক্তিবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভারত ইতিমধ্যে পরবর্তী সাফল্যের পথে পা বাড়াতে তৈরি। বিজ্ঞানের শক্তির আধার হয়ে ওঠার মতো জায়গায় আসছে ভারত।' তারা এ বিষয়ে তুলে ধরেছে ভারতের ফার্মাসিউটিকাল ইন্ডাস্ট্রির কথা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ভারত যে পরিমাণ ওষুধ বিদেশে রফতানি করেছে তা উল্লেখযোগ্য। শুধু তাই নয়, এই দেশে এমন ওষুধ তৈরি হয়েছে যার উপকার পেয়েছে গোটা বিশ্ব।

Science Powerhouse: ভারতের অর্থনীতির সঙ্গে হাত ধরাধরি করে এগোচ্ছে বিজ্ঞান-গবেষণাও, বলছে নেচার পত্রিকা
প্রতীকী চিত্র।
| Updated on: Apr 20, 2024 | 7:00 AM
Share

নয়াদিল্লি: শুরু হয়ে গেল ভারতের সাধারণ নির্বাচন। একাধিক জনমত সমীক্ষা জানিয়েছে, ৪ জুন এই নির্বাচনের ফল প্রকাশ হলে দেখা যাবে আবারও সরকার গড়বে বিজেপিশাসিত জোট এনডিএ। মনে করা হচ্ছে বিজেপির নেতৃত্বে তৃতীয় দফার সরকার গড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের অর্থনীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর চিনের পর তৃতীয় বৃহত্তম হওয়ার লক্ষ্যে ঝাঁপাবে। এরইমধ্যে নেচার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ভারত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতেও বিশ্বের অন্যতম পাওয়ার হাউস হয়ে ওঠার ক্ষমতা অর্জন করবে।

গত কয়েক বছরে জাতীয় অর্থনীতির পাশাপাশি বিজ্ঞান ও গবেষণায় ভারত সরকারের আগ্রহ আর বিনিয়োগের গ্রাফ দেখলে বিষয়টা আরও স্পষ্ট হবে। এই ক্ষেত্রটাকে বড় একটা ঝাঁকুনি দিতে গেলে স্বায়ত্ত্বশাসন দরকার। নেচার লিখেছে, ‘অর্থনৈতিক শক্তিবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভারত ইতিমধ্যে পরবর্তী সাফল্যের পথে পা বাড়াতে তৈরি। বিজ্ঞানের শক্তির আধার হয়ে ওঠার মতো জায়গায় আসছে ভারত।’ তারা এ বিষয়ে তুলে ধরেছে ভারতের ফার্মাসিউটিকাল ইন্ডাস্ট্রির কথা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ভারত যে পরিমাণ ওষুধ বিদেশে রফতানি করেছে তা উল্লেখযোগ্য। শুধু তাই নয়, এই দেশে এমন ওষুধ তৈরি হয়েছে যার উপকার পেয়েছে গোটা বিশ্ব। করোনাকালে টিকা তৈরি করে বিজ্ঞানের দিশা খুলে দিয়েছে এই দেশ। অতিমারিকালে সাফল্যের সঙ্গে গোটা দেশে তা সরবরাহ করা হয়েছে। পাঠানো হয়েছে দেশের বাইরেও। মানুষ সেই টিকার সঙ্গে সঙ্গে নতুন আলোর দিশা পেয়েছেন জীবনে। করোনা মোকাবিলায় বিশ্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ভারত।

নেচারে খুব প্রশংসার সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে চাঁদে ভারতের সফল অভিযানের কথা। দেশীয় প্রযুক্তিতে চতুর্থ দেশ হিসাবে ভারত এই কাজ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভারত প্রথম কোনও দেশ যারা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণে সফল হয়েছে। ইসরোর বিজ্ঞানীরা চন্দ্রযান-৩-এর সফ্ট ল্যান্ডিংয়ে যে সাফল্য দেখিয়েছেন, তা বিশ্বের দরবারে ভারতকে শীর্ষে নিয়ে গিয়েছে। এই উদ্যোগগুলিই প্রমাণ করে ভারত আগামিদিনে বিজ্ঞানক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নেবে।

কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে নেচার পত্রিকা। দেখিয়েছে দেশের মোট জিডিপির মধ্যে কত শতাংশ ভারত সরকার তাদের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা বিজ্ঞান গবেষণায় বরাদ্দ করছে। একটি পরিসংখ্যান বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর চিনের পর ২০১৪ থেকে ২০২১-এর মধ্যে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৬০ থেকে ১১১৩ তে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে বিজ্ঞান গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আরও ৭টি এমন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হচ্ছে।

২০২০-২১-এর হিসাব বলছে, দেশের মোট জিডিপির ০.৬৪% খরচ হয়েছে বিজ্ঞান ও গবেষণায়। ২০২২ এর একটি তথ্য বলছে বিশ্বের ৩৮টি অর্থনীতিতে উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে তুলনা করে দেখা গিয়েছে বিজ্ঞান ও গবেষণায় কোনও একটি দেশ খরচ করেছে সর্বোচ্চ ২.৭% পর্যন্ত। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে চিন তা পেরেছে ২.৪% পর্যন্ত। সেই পরিসংখ্যানই বলছে ভারতের ক্রয় ক্ষমতা আগের থেকে অনেক বেড়েছে। ২০১৪-১৫ তে যা ছিল ৫০.৩ ইউএস বিলিয়ন ডলার। ২০২০-২১-এই তা হয়েছে ৫৭.৯ ইউএস বিলিয়ন ডলার। এ দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের পর ২০০৯ সালে জিডিপির .৮২% বিজ্ঞান গবেষণায় খরচ করেছিল ভারত। কিন্তু ধীরে ধীরে তা নিম্নমুখী হয়। এনডিএ সরকার বিগত কয়েক বছরে সেই গ্রাফকে দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এখানে উল্লেখযোগ্য, গত অগস্ট মাসে ভারতীয় সংসদে একটি বিল পাস করানো হয়েছে যার মাধ্যমে অনুসন্ধান ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের জন্য একটি তহবিল সংস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, যারা গবেষণায় অর্থ বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করবে। ৫০০ বিলিয়ন খরচ করা হচ্ছে গবেষণাখাতে। সরকারিভাবে গবেষণার পাশাপাশি বহু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও আগ্রহ দেখিয়ে এগিয়ে আসছে এই গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।

এপ্রিলেই ভারতে আসছেন টেসলা-র সিইও ইলন মাস্ক। দেশের স্টার্ট আপ সংস্থার কর্নধারদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা তাঁর। মাস্কের ভারত সফরে বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা যে রয়েছে তেমনটাই খবর। ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করতে পারেন বলেও সূত্রের খবর। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে ভারতে অন্তত ২০০০ থেকে ৩০০০ কোটি বিনিয়োগের বার্তাও দিয়ে যেতে পারেন তিনি।