নয়া দিল্লি: চলতি বছরের শুরুতেই পঞ্জাব সফরে গিয়ে বিপদের মুখে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটায় মাঝরাস্তাতেই উড়ালপুবের উপরে প্রায় আধ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে প্রধানমন্ত্রীর কনভয়। এই ঘটনার তদন্তেই বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলাতেই এদিন সুপ্রিম কোর্টে তদন্তকারী কমিটির তরফে জানানো হয়, পঞ্জাব পুলিশের তরফে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় গাফিলতি হয়েছিল। ফিরোজপুরের তৎকালীন এসএসপি হরমনদীপ সিং হংসকে এই গাফিলতির জন্য দায়ী করা হয়েছে।
এদিন সকালেই সুপ্রিম কোর্টে প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটির তরফে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর নিয়ে আগে থেকে যাবতীয় তথ্য জানানো হলেও, যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি। ফিরোজপুরের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, “যথাযথ ফোর্স মজুত থাকা সত্ত্বেও এবং প্রধানমন্ত্রীর কনভয় যে রুট ধরে ফিরোজপুরে যাবে, সেই তথ্য দুই ঘণ্টা আগেই জানানো হলেও, এসএসপি যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেননি।”
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এনভি রমণের বেঞ্চের তরফে জানানো হয়, পাঁচ সদস্যের কমিটির তরফে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা মজবুত করার জন্য বেশ কিছু সংশোধন ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। কমিটির জমা দেওয়া রিপোর্ট উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “ফিরোজপুরের এসএসপি হরমনদীপ সিং হংসের কাছে লোক জমায়েত হওয়ার খবর থাকলেও তিনি আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। প্রধানমন্ত্রী যে ফিরোজপুরের রুট ধরে আসবেন, দুই ঘণ্টা আগেই সে কথা জানা সত্ত্বেও তিনি নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্তা করতে ব্যর্থ হন। তাঁর কাছে পর্যাপ্ত বাহিনীও উপস্থিত ছিল, তবুও তিনি কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি”। শীর্ষ আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, পাঁচ সদস্যের কমিটির তরফে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য যে পরামর্শগুলি দেওয়া হয়েছে, তা কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হবে, যাতে সেই সুপারিশ মতো নিরাপত্তা বাড়ানো যায়।
চলতি বছরের গত ৫ জানুয়ারি পঞ্জাব সফরে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সকালে ভাটিণ্ডায় অবতরণ করে বিশেষ বিমান। সেখান থেকেই হুসেইনওয়ালায় যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। হেলিকপ্টারে করে সেখানে যাওয়ার কথা থাকলেও, খারাপ আবহাওয়ার কারণে সড়কপথেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ফিরোজপুরের কাছে একটি উড়ালপুলে পৌঁছতেই আটকে পড়ে কনভয়। কারণ সেই সময়ই উড়ালপুলের সামনে পথ আটকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল আন্দোলনরত কৃষকরা। প্রায় আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর বাধ্য হয়ে ভাটিণ্ডায় ফিরে আসেন প্রধানমন্ত্রী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক শুরু হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফেও বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, রাস্তায় বিক্ষোভ সরিয়ে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল না। পঞ্জাব সরকারকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি সম্পর্কে আগেই জানানো হলেও, তাঁরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।