
নয়া দিল্লি: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস (RSS) নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকার নয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করল আরএসএস। এর আগে কোনও সরকারি কর্মী আরএসএস-এ যোগ দিতে পারতেন না। কয়েক দশক ধরে এমনই নিয়ম ছিল। অবশেষে সেই নিয়মে এসেছে বদল। সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে আরএসএসে যোগ দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।
আরএসএস-এর সর্বভারতীয় প্রচার প্রধান সুনীল আম্বেদকর এই প্রসঙ্গে বলেছেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে আগের সরকার সঙ্ঘের মতো একটি গঠনমূলক সংগঠনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে নিষেধ করেছিল সরকারি কর্মীদের। তিনি উল্লেখ করেছেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ গত ৯৯ বছর ধরে জাতির পুনর্গঠনে এবং সমাজের সেবায় নিযুক্ত রয়েছে।
সুনীল আম্বেদকর আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় সুরক্ষা, ঐক্যের ক্ষেত্রে অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাহায্য করার জন্য বারবার প্রশংসিত হয়েছে আরএসএস।
প্রায় ৫৮ বছর আগে নিয়ম লাগু করা হয়েছিল যে, সরকারি কর্মীরা আরএসএস-এ যোগ দিতে পারবেন না। সেই নিয়ম তুলে নেওয়ার পর বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে মোদী সরকারকে। সঙ্ঘের তরফে ২০১৮ সালেই বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছিল।
আরএসএসে যোগ দেওয়ার অভিযোগে ১৯৬৫ সালে শ্রী রামপাল নামে এক ব্যক্তির চাকরি বাতিল করার নির্দেশ দেয় পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট। সেই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, আরএসএস কোনও রাজনৈতিক দল নয়, ফলে এতে কোনও নিয়ম লঙ্ঘিত হয়নি। কিন্তু হাইকোর্ট উল্লেখ করেছিল এটি একটি রাজনৈতিক দল। আর সেই যুক্তিতেই ওই ব্যক্তির চাকরি বাতিল হয়। সেই নির্দেশকে রামপাল চ্যালেঞ্জ করেন। সেই সময় হাইকোর্ট মেনে নেয় যে আরএসএসকে রাজনৈতিক দল বলার মতো কোনও প্রমাণ নেই।