Narendra Modi: পরবর্তী ১০০ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ভোটারদের আস্থা চাই: মোদী
BJP Meeting: এ দিন বিজেপির সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "দেশে দুর্নীতির জনক ছিল কংগ্রেস। কংগ্রেসের জমানায় দেশের অর্থনীতি প্রথম স্থান থেকে পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছে"।

নয়া দিল্লি: বিজেপির রাষ্ট্রীয় অধিবেশনের দ্বিতীয়দিনে কংগ্রেস-তৃণমূলকে সরাসরি আক্রমণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহের (Amit Shah)। এ দিন বিজেপির সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দেশে দুর্নীতির জনক ছিল কংগ্রেস। কংগ্রেসের জমানায় দেশের অর্থনীতি প্রথম স্থান থেকে পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছে”। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদী বললেন, সামনের ১০০ দিনের মধ্যে বিজেপি কর্মীদের দেশের সকলের আস্থা অর্জন করতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেসকেও একযোগেই আক্রমণ করেন তিনি। সারদা দুর্নীতি থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার নিয়ে চাঁচাছোলা আক্রমণ করেন তিনি।
বিজেপির রাষ্ট্রীয় অধিবেশনে যা বললেন অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদী –
- প্রধানমন্ত্রী মোদী: বিদেশেও সবাই বুঝে গিয়েছে, আসবে তো মোদীই। তাই সকলে আমায় তাঁদের দেশে আসার জন্য আগাম আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।
- প্রধানমন্ত্রী মোদী: আমরা ২০২৯ এবং ২০৩৬ সালে ভারতে যথাক্রমে যুব অলিম্পিক এবং অলিম্পিক আয়োজন করার পরিকল্পনা করছি। ২০৩০ সালের মধ্যে রেলওয়ে কার্বন নিঃসরণ শূন্য করার লক্ষ্য নিয়েছে।
- প্রধানমন্ত্রী মোদী: গত ১০ বছরে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা কয়েক দশকের পুরনো সমস্যার সমাধান করেছি। অযোধ্যা রাম মন্দির নির্মাণের মাধ্যমে পাঁচ শতাব্দীর অপেক্ষার অবসান হয়েছে। সাত দশক পর, কর্তারপুর করিডরের উদ্বোধন করা হয়েছে। সাত দশক পর অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করা হয়েছে। ছয় দশক পরে, রাজপথের নামকরণ করা হয়েছে কর্তব্য পথ। চার দশক পর, ওয়ান ব়্যাঙ্ক ওয়ান পেনশনের দাবি পূরণ হয়েছে। তিন দশক পর, দেশে নতুন শিক্ষানীতি এবং মহিলাদের সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিল পাশ করা হয়েছে। আমরা তিন তালাকের বিরুদ্ধে একটি আইনও এনেছি।
- প্রধানমন্ত্রী মোদী: আমিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি লাল কেল্লা থেকে শৌচালয়ের বিষয়টি তুলেছিলাম। মহিলাদের প্রতি অবমাননাকর শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছি। আমরা দেশকে মেগা কেলেঙ্কারি, সন্ত্রাসী হামলা থেকে মুক্ত করেছি; দরিদ্র, মধ্যবিত্তদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার প্রচেষ্টা করেছি, প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন।
- প্রধানমন্ত্রী মোদী: কোটি কোটি মহিলা, গরিব এবং যুবদের স্বপ্নই মোদীর স্বপ্ন।
- ভাষণ দেওয়া শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিজেপি কর্মীদের তিনি বললেন, পরবর্তী ১০০ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক ভোটারের আস্থা অর্জন করতে হবে। আমাদের সবার আস্থা অর্জন করতে হবে। ভারতে এখন শুধু বড় স্বপ্ন দেখছে এবং বড় সংকল্প গ্রহণ করছে।
- অমিত শাহ: কথায় আছে, বড়ে মিঞা তো বড়ে মিঞা, ছোটে মিঞা সুবাহাল্লাহ। যখন কংগ্রেস দুর্নীতি করে, তখন তার জোটসঙ্গীরা কেন পিছিয়ে থাকবে। আম আদমি পার্টি চিকিৎসার নামে মহল্লা ক্লিনিক নিয়ে দুর্নীতি করেছে। ঝাড়খণ্ডে এক সাংসদের বাড়ি থেকে ৩৫০ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। ছত্তীসগঢ়ে মহাদেবের নামে জুয়া খেলানোর দুর্নীতি হয়েছে। ডিএমকে মন্ত্রীদের বাড়ি থেকে কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। তৃণমূলের নেতাদের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়। এক জায়গা থেকেই ৫৫ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। লালুজি ইতিমধ্যেই শাস্তি পাচ্ছেন, এখনও দুর্নীতি সামনে আসছে প্রতিনিয়ত।
- অমিত শাহ: কংগ্রেসের নেতৃত্বে এই অহংকারী গঠবন্ধনের সকলেই দুর্নীতিগ্রস্ত। নরেন্দ্র মোদীকে ভোট দিতে হবে। এই দুর্নীতিগ্রস্তদের কোনওভাবে ভোট দেবেন না।
- অমিত শাহ: অনেকে বলছেন ইন্ডিয়া জোট নাকি আমাদের জন্য় বড় চ্যালেঞ্জ। আমার কাছে ইন্ডিয়া জোট হল সাত পরিবারবাদী দলের জোট হল ইন্ডিয়া। যারা নিজেদের দলের মধ্যেই গণতন্ত্র তৈরি করতে পারে না, তারা দেশের গণতন্ত্র কী রক্ষা করবে? একদিকে মোদীজির উন্নয়নমূলক জোট, অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর পরিবারতান্ত্রিক। আমার বিশ্বাস, জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। ভারতীয় জনতা পার্টিকেই বেছে নেবে।
- অমিত শাহ: মোদীজি আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য রেখেছেন, ২০৪৭ সাল অবধি রোডম্যাপ তৈরি করে রেখেছেন। সনিয়াজির লক্ষ্য় হল নিজের ছেলেকে প্রধানমন্ত্রী বানানো, শরদ পওয়ারের লক্ষ্য হল নিজের মেয়েকে মুখ্য়মন্ত্রী বানানো, মমতাদির লক্ষ্য ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করা, স্ট্যালিনের লক্ষ্য তাঁর ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী বানানো, উদ্ধব ঠাকরের লক্ষ্য ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী করা, লালুজির লক্ষ্য় ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী করা আর মুলায়মজি তো ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী করেই গিয়েছেন।
- অমিত শাহ: যাদের লক্ষ্যই নিজেদের ছেলে-মেয়ের উন্নয়ন, তারা কি কখনও দেশের উন্নয়ন করতে পারে? কখনও না।
- অমিত শাহ: দেশে ২জি, ৩জি, ৪জি পার্টি আছে। ২জির মানে ২জি দুর্নীতি নয়, দুই প্রজন্ম, তিন প্রজন্ম ধরে চলে আসা রাজনীতি। চার প্রজন্ম ধরে নেতা বদল হয় না। কেন? দেশের যুবদের কি শক্তি নেই? তারা এগোলেই ক্ষমতা খর্ব করে দেওয়া হয়।
- অমিত শাহ: দেশের মানুষদের কাছে প্রশ্ন, বিজেপি যদি পরিবারবাদী পার্টি হত, তাহলে একজন চা বিক্রেতার ছেলে কখনও প্রধানমন্ত্রী হত না।
- অমিত শাহ: গণতন্ত্রে সকলকে সমান সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিজেপিই একমাত্র এই সুযোগ দেয়।
- অমিত শাহ: মোদীজি অত্যন্ত গরিব পরিবার থেকে এসেছেন, যা কল্পনাও করতে পারবেন না। সেখান থেকে গোটা বিশ্বের কাছে ভারতকে সম্মানিত করেছেন।
- অমিত শাহ: দেশের রাষ্ট্রপতিও জনজাতি। গরিব আদিবাসীর মেয়েকে রাষ্ট্রপতি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষকের ছেলে আজ দেশের উপমুখ্যমন্ত্রী। এটা কেবল বিজেপিতেই সম্ভব, কারণ আমরা আমাদের দলকে গণতান্ত্রিক বানিয়েছি।
- অমিত শাহ: একমাত্র মোদীজির নেতৃত্বে বিজেপিই দেশের উন্নয়ন করতে পারে।
- অমিত শাহ: সংবিধানে বরাবর বাক স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের কোনও ধর্ম হয় না। কিন্তু কংগ্রেস ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য ভেদাভেদ তৈরি করেছে।
- অমিত শাহ: বিদেশনীতি নিয়েও ভ্রান্ত ধারণা ছিল যে বিশ্বের সঙ্গে বন্ধু হতে গেলে, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপোশ করতে হবে। অনেক নেতাই বুঝতে পারতেন না কোন নীতি অনুসরণ করবেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদী কোনও দ্বিধা না করেই দেশের নিরাপত্তাকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ভারতকে বিশ্বমিত্র করে তুলেছেন তিনি।
