Satabdi Roy: মমতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন? আজ সবটা জানিয়ে দিলেন শতাব্দী
Satabdi Roy responds to allegations of betraying Mamata Banerjee: তাঁরা তৃণমূলের নতুন ব্লক গঠন করেছেন। বিজেপিতে কি যোগ দেবেন? ঊনত্রিশের লোকসভা ভোটে কাদের টিকিটে প্রার্থী হবেন তাঁরা? একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে। এই নিয়ে শতাব্দী বলেন, "এখনও কিছু ঠিক হয়নি। ভবিষ্যৎই বলবে। আপাতত সাংসদ হিসেবেই মানুষকে পরিষেবা দিয়ে যাব। এবং সেটা রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাজ করলে অনেক বেশি সুবিধা হবে।"

কলকাতা: তাঁরা এখন বিক্ষুব্ধ সাংসদ। লোকসভায় তৃণমূলের নতুন ব্লক তৈরি করেছেন। কিন্তু, তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে কি বিজেপিতে যোগ দেবেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়ার জন্য কুণাল ঘোষের মতো নেতারা তাঁদের বিশ্বাসঘাতক বলছেন। সত্যিই কি তাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন? টিভি৯ বাংলাকে সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। কী বললেন তিনি?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন?
কুণাল ঘোষ-সহ তৃণমূলের অনেকে বলছেন, এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে এখন ছেড়ে যাচ্ছেন। এটা বিশ্বাসঘাতকতা। সত্যিই কি তাই? প্রশ্ন শুনে ২০০৯ সাল থেকে বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, “কোনও কিছু জয়ের জন্য ভোটিং হয় কেন? কারণ, কত জন মানুষ কী চাইছেন, সেটা জানতে। এতগুলো লোক চাইছেন মানে সেটাই সঠিক কিংবা এই মুহূর্তে পছন্দের। সেখানে এখানে যদি ২৮ জনের মধ্যে ১৯ জন না আসতেন এবং ৪ জন আসতেন, সেটা বিশ্বাসঘাতকতার জায়গা হত। এখন উল্টো সংখ্যা যখন এসেছে, তার মানে এতগুলো লোকের ভাবনা, এতগুলো মানুষের অভিযোগ সব এক হয়েছে। তাহলে আমার মনে হয়, সেটাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”
এরপরই তিনি বলেন, “বেশি লোক যেখানে একই কথা বলছে এবং কেউ কারও আত্মীয় নয়, কেউ কারও কলেজের বন্ধু নয়, কেউ কারও ভাইবোন নয়, তারপরও আলাদা আলাদা জায়গা থেকে আসা মানুষগুলোর অভিযোগ যদি একই থাকে, তাহলে সেটা আমার মনে হয় মূল্যবান। এবং সেটার জন্যই সবাই মিলে একই ভাবনাকে কাজ করতে এসেছি। ফলে যারা বিশ্বাসঘাতক বলছে, তারা কতদিন বিশ্বাসযোগ্য থাকে, সেটা আগামিদিন দেখা যাবে।”
কবে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে চিঠি জমা পড়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই নিয়ে শতাব্দী বলেন, “ওদের বক্তব্য ছেলেমানুষি। ওরা যখন বলছে যে ১৯ জনের স্বাক্ষর করতে পারেনি, আমরা বলেছি, ২ দিন অপেক্ষা করুন। চিঠিটা প্রকাশ্যে আসবে। প্রথমত, স্পিকার দিল্লিতে ছিলেন না। এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ কিছু ব্যাপার ছিল। সেজন্য চিঠিটা সামনে আনছিলাম না। এটাও বলেছিলাম, বেশিদিন না, ২-৩ দিন অপেক্ষা করুন। চিঠিটা আসবে। কারণ, আমরা জানি যে কী সই হচ্ছে, কারা সই করছে। তারপরও ওরা সাংবাদিক বৈঠকে বলে যাচ্ছে। এখন তো প্রমাণ হল, ওরা মিথ্যে আর আমরা সত্যি।”
এবার কার টিকিটে লড়বেন?
তাঁরা তৃণমূলের নতুন ব্লক গঠন করেছেন। বিজেপিতে কি যোগ দেবেন? ঊনত্রিশের লোকসভা ভোটে কাদের টিকিটে প্রার্থী হবেন তাঁরা? একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে। এই নিয়ে শতাব্দী বলেন, “এখনও কিছু ঠিক হয়নি। ভবিষ্যৎই বলবে। আপাতত সাংসদ হিসেবেই মানুষকে পরিষেবা দিয়ে যাব। এবং সেটা রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাজ করলে অনেক বেশি সুবিধা হবে। এবং মুখ্যমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, সাংসদ তহবিলের টাকা ছাড়াও মানুষকে পরিষেবা দিতে আমাদের সাহায্য করা হবে।”
অনেকেই প্রথমে মমতার সঙ্গে থাকার কথা বলেও বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন। এই নিয়ে শতাব্দী বলেন, “৪ মে-র পর আমার কোনও ইন্টারভিউ দেখবেন না, যেখানো আমি বলেছি, বেনোজল চলে যাক। আমি কেন চলে এসেছি, তার কারণ জানিয়েছি।”
