নয়াদিল্লি: ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অভিবাসন নীতিকে কড়া করতে এনেছিল নতুন আইন। এবার সেই একই পথে ভারতও। দেশের সীমানাকে সুরক্ষিত করতে বৃহস্পতিবার লোকসভায় পাস হয়ে গেল নতুন অভিবাসন বিল।
অধিবেশন পর্বে এই নতুন বিল নিয়ে খানিক সুর চড়ল বটে। তবে তাতে বিশেষ সমস্যা হয়নি। সর্বসম্মতিতেই পাস হয়েছে এই নতুন বিল। কিন্তু এর মাধ্য়মে ঠিক কী বদল হতে চলেছে? জানা গিয়েছে, দেশের অভিবাসন নীতিকে আরও কড়া করবে কেন্দ্রীয় সরকার। বছর বছর ধরে যে রোহিঙ্গা সমস্যা, অনুপ্রবেশ ব্যাধিতে ধুঁকছে ভারত। সেই রোগেরই ওষুধ এই নতুন বিল।
১৯২০ সালের পাসপোর্ট আইন, ১৯৩৯ সালের ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৬ সালে ফরেনার্স অ্যাক্ট ও ২০০০ সালের অভিবাসন আইন বাতিল করে, এই নতুন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট ২০২৫ বিল আনার প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। যা ইতিমধ্যেই গৃহীত হয়েছে লোকসভায়।
নতুন বিলে নতুন নীতি
এই বিলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়টিই হল এর মধ্য়ে থাকা অভিবাসীদের জন্য ছয়টি ভিন্ন শ্রেণি। যেখানে পর্যটক, পড়ুয়া, পরিযায়ী শ্রমিক, ব্যবসার কাজে আসা ব্যক্তি, উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট শ্রেণি ও নিয়ম। প্রত্যেকটি শ্রেণির ভিসা পদ্ধতি ভিন্ন।
জানা গিয়েছে, এই নতুন বিলের মাধ্যমে ভিসার আবেদন পদ্ধতিকেও আগের তুলনায় অনেক সহজ করে দিতে চলেছে কেন্দ্র। যে কেউ সহজেই বাড়িতে বসেই ভারতীয় ভিসার আবেদন জানাতে পারবেন। পাশাপাশি, কারওর যদি দীর্ঘমেয়াদি ভিসার প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির আঙুলের ছাপ ও বায়োমেট্রিক নথি সংগ্রহ করবে আবেদনকারীর দেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলি। সেক্ষেত্রে সেই আবেদনকারীর কখনও কোনও অপরাধ কাজে যুক্ত হয়েছেন কিনা সেই নিয়েও তদন্ত করে দেখা হবে।
এই নতুন বিলে পড়ুয়া ও ব্যবসায়ীক কাজে আসা ব্যক্তিদের জন্য এই বিশেষ নীতি নির্ধারণ করেছে কেন্দ্র। জানানো হয়েছে, কোনও বিদেশি পড়ুয়া বা ব্যবসার কাজে আসা ব্যক্তি ভারতে এসে কোনও রকম ভাবে চাকরিতে যোগদান করতে পারবেন না। এছাড়াও, কারা দেশে আসছেন, কারা যাচ্ছেন, সেই দিকেও নজর রাখতে একটি ডিজিটাল ডেটাবেসও তৈরি করা হবে।
নতুন বিলে আগের তুলনায় বেড়েছে অভিবাসন নীতি লঙ্ঘনের সাজাও। কোনও ব্যক্তি যদি ভারতে ভিসা ছাড়া আসেন, বা ভিসা অনুমোদন নিয়ে এসেও তাকে প্রদ্যত্ত পর্যাপ্ত সময়ের বেশি থেকে যান, সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে সরকার। গ্রেফতার থেকে চিরকালের জন্য ভারতে ঢোকার পথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে তার জন্য।