AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Priyanka Gandhi Vadra: কেন ওয়ায়নাড়ে প্রিয়াঙ্কা? ঘর পোড়া কংগ্রেস ভয় পাচ্ছে সিঁদুরে মেঘে…

Priyanka Gandhi Vadra: ওয়ায়নাড় থেকে প্রিয়াঙ্কার ভোটে লড়ার সিদ্ধান্তটি আবেগের বলে দেখাতে চাইছে কংগ্রেস। তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে যথেষ্ট ভাবনা-চিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। আসলে, রাহুল গান্ধীর আগে ইন্দিরা গান্ধী এবং সনিয়া গান্ধীও দক্ষিণ ভারতের জেতা আসন ছেড়ে গিয়েছিলেন। তার কড়া মাশুল দিতে হয়েছিল কংগ্রেসকে।

Priyanka Gandhi Vadra: কেন ওয়ায়নাড়ে প্রিয়াঙ্কা? ঘর পোড়া কংগ্রেস ভয় পাচ্ছে সিঁদুরে মেঘে...
ভেবেচিন্তেই ওয়ায়নাড়ে প্রিয়াঙ্কাকে প্রার্থী করল কংগ্রেসImage Credit: PTI
| Updated on: Jun 18, 2024 | 4:14 PM
Share

তিরুবনন্তপুরম: নির্বাচনের ফল ঘোষণার ১৩ দিন পর, কেরলের ওয়ায়নাড় আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সোমবার (১৭ জুন), কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের সরকারি বাসভবনে এক বৈঠক করে কংগ্রেস হাইকমান্ড। তারপর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাহুল গান্ধীর আগে তাঁর ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধী এবং তাঁর মা সনিয়া গান্ধীও দক্ষিণ ভারত থেকে লোকসভা আসনে জেতার পর, সেই আসন ছেড়ে গিয়েছিলেন। ১৯৮০ সালে কর্নাটকের চিকমাগালুর আসনের পরিবর্তে রায়বরেলিকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন ইন্দিরা। একইভাবে, ১৯৯৯ বেল্লারি এবং অমেঠি থেকে জয়ী হওয়ার পর, অমেঠিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন সনিয়া গান্ধী। রাহুল অবশ্য ওয়ায়নাড়কে পুরোপুরি ছেড়ে দিচ্ছেন না, আসনটি তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর হাতে তুলে দিচ্ছেন। এখান থেকে জীবনের প্রথম নির্বাচনে লড়বেন প্রিয়াঙ্কা। ওয়ায়নাড় থেকে প্রিয়াঙ্কার ভোটে লড়ার সিদ্ধান্তটি আবেগের বলে দেখাতে চাইছে কংগ্রেস। তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে যথেষ্ট ভাবনা-চিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস হাইকমান্ড।

ইন্দিরার চিকমাগালুর ত্যাগ, রাজ্য কংগ্রেসের হাতছাড়া

১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার পরের নির্বাচনে, উত্তর প্রদেশের রায়বরেলী লোকসভা আসন থেকে পরাজিত হয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। তাঁর রাজনৈতিক জীবন নিয়েই জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। ১৯৭৮ সালে, চিকমাগালুর আসনের উপনির্বাচন ছিল। স্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের অনুরোধে, ওই আসন থেকে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ইন্দিরা। জনতা পার্টির বীরেন্দ্র পাতিলকে প্রায় ৭৭ হাজার ভোটে পরাজিত করেন ইন্দিরা। এর দুই বছর পর, জনতা পার্টি সরকারের পতন হয়েছিল। ১৯৮০ সালে নির্বাচন ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। চিকমাগালুরকে ছেড়ে, মেদক এবং রায়বরেলী আসন থেকে লড়েছিলেন ইন্দিরা।

ইন্দিরার তরঙ্গে সেইবার বদলে চিকমাগালুর থেকেও কংগ্রেস প্রার্থী ডিএম পুত্তেগৌড়া জিতেছিলেন বটে, কিন্তু অদূর ভবিষ্যতেই কর্নাটক রাজ্যের ক্ষমতা হারিয়েছিল কংগ্রেস। ইন্দিরার চিকমাগালুর ত্যাগ করাকে বড় ইস্যুতে পরিণত করেছিল বিরোধীরা। ১৯৮৩ সালে কর্নাটকে প্রথম অ-কংগ্রেসি সরকার গঠিত হয়েছিল। চিকমাগালুর লোকসভা আসনের অন্তর্গত ৮টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৬টিতেই মুখ থুবরে পড়েছিল কংগ্রেস।

সনিয়ার বেল্লারি ত্যাগ, কর্নাটকে কংগ্রেস অর্ধেক

১৯৯৯ সালে প্রথম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সনিয়া গান্ধী। তাঁর বিরুদ্ধে ‘বহিরাগত’ প্রচার তুলেছিল বিজেপি। উত্তর ভারতে এই প্রচারের বড় প্রভাব পড়ে পারে আশঙ্কায়, উত্তর প্রদেশের অমেঠীর পাশাপাশি, কর্নাটকের বেল্লারি আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সনিয়া। বেল্লারিতে সনিয়ার বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী করেছিল সুষমা স্বরাজকে। প্রায় ৫৬ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন সনিয়া। অমেঠিতেও জিতেছিলেন। একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ আসলে, সনিয়া বেল্লারির থেকে অমেঠিকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

সনিয়ার এই সিদ্ধান্তে, কর্নাটকে ক্ষতির মুখে পড়েছিল কংগ্রেস। ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে, এই রাজ্যে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা কমে ১৮ থেকে ৮-এ নেমে এসেছিল। বেল্লারিতেও হেরেছিল কংগ্রেস। ২০০৯-এও জিততে পারেনি। প্রভাব পড়েছিল ২০০৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও। কংগ্রেসের ৬৭টি আসন কমে গিয়েছিল। মাত্র ৬৫টি আসন পেয়েছিল কংগ্রেস। বেল্লারি লোকসভার অন্তর্গত ৮টি বিধানসভা আসনের মধ্যে কংগ্রেস জিতেছিল মাত্র ১টিতে।

কেরলে ভোট ২ বছরে, আশায় কংগ্রেস

২ বছর পরই রয়েছে কেরলের বিধানসভা নির্বাচন। গত দুইবার লোকসভা ভোট এবং বিধানসভা ভোটের এক অদ্ভূত প্রবণতা দেখা গিয়েছে। ২০১৪ এবং ২০১৯-এও লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসই বেশি আসনে জয়ী হয়েছে। আর ২০১৬ এবং ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছে সিপিএম-এর নেতৃত্বে বামেরা। তবে, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে সিপিআইএম প্রায় ধুয়ে মুছে গিয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের ভোটের প্রেক্ষিতে, কেরলের ১৪০টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১১১টি বিধানসভা কেন্দ্রেই কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে। আর সিপিএম-এর নেতৃত্বাধীন বাম জোট এগিয়ে রয়েছে ১৮টি আসনে। আর বিজেপি জোট এগিয়ে রয়েছে ১১টি বিধানসভা আসনে। তার উপর, কেরলে এখনও পর্যন্ত কোনও মুখ্যমন্ত্রীই একটানা দুইবারের বেশি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেননি। গত দুইবারই মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন পিনারাই বিজয়ন। তাই কংগ্রেস এবার রাজ্যে ক্ষমতায় ফেরার বিষয়ে আরও বেশি আশাবাদী।

এমন পরিস্থিতিতে গান্ধী পরিবারের ওয়ায়নাড় ছাড়া, সেই আশায় জল ঢেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা। এর আগে কর্নাটকে দু-দুবার ঘর পুড়েছে। তাই সিঁদুরে মেঘ দেখেই ভয় পাচ্ছে তারা। রাহুলের পরিবর্তে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে এখান থেকে প্রার্থী করে, কেরলকে, কর্নাটক হওয়া থেকে আটকানো যেতে পারে বলে মনে করছে হাত শিবির। প্রিয়াঙ্কাকে রায়বরেলী থেকেও প্রার্থী করা যেতে পারত। কিন্তু, রায়বরেলীর তুলনায় ওয়ানাডের সমীকরণ কংগ্রেসের পক্ষে বেশি নিরাপদ বলে মনে করা হচ্ছে। জয় নিয়ে কোনও দ্বিধাই নেই।

Follow Us