West Bengal Weather: ৯ ডিগ্রিতে কাঁপছে দমদম, শ্রীনিকেতনে ৬! ফ্রিজের মতো ঠান্ডা আর কদ্দিন?
Winter in Bengal: বীরভূমের শ্রীনিকেতনে তাপমাত্রা ৬.৬ ডিগ্রিতে নেমে আসায় তা পাহাড়ি শহর কালিম্পংকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। কালিম্পংয়ে আপাতত ৬ এর উপরেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার পাশাপাশি ঘন কুয়াশার দাপট বজায় থাকায় আজও রাজ্যজুড়ে ‘শীতল দিন’-এর সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

কলকাতা: শীতের তীব্র কামড় আর ঘন কুয়াশার জোরালো দাপটে এই মুহূর্তে কার্যত জবুথবু গোটা বাংলা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রের খবর, উত্তুরে হাওয়ার অবাধ প্রবেশের কারণে রাজ্যজুড়ে পারদ পতন অব্যাহত রয়েছে। মহানগরী কলকাতাতেও শীতের দাপট চরমে। আজও ১০ ডিগ্রির ঘরে কলকাতার পারদ। এদিন আলিপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও শহরতলির দমদমে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে ৯.৮ ডিগ্রিতে। তবে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে শীতের ব্যাটিং আরও ভয়ঙ্কর। আবহাওয়া দপতর বলছে এই সপ্তাহান্ত পর্যন্ত এই ছবিই দেখা যাবে রাজ্যজুড়ে। তবে শনিবার থেকে হাওয়ার কিছুটা বদল দেখা যেতে পারে।
বিশেষ করে বীরভূমের শ্রীনিকেতনে তাপমাত্রা ৬.৬ ডিগ্রিতে নেমে আসায় তা পাহাড়ি শহর কালিম্পংকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। কালিম্পংয়ে আপাতত ৬ এর উপরেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার পাশাপাশি ঘন কুয়াশার দাপট বজায় থাকায় আজও রাজ্যজুড়ে ‘শীতল দিন’-এর সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। কুয়াশার প্রভাব দেখা গিয়েছে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। এদিন সকাল আটটা নাগাদ বিমানবন্দরের দৃশ্যমানতা মাত্র ৫০ মিটারে নেমে আসে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘ক্যাট থ্রি’ (CAT III) আলোক প্রযুক্তি। রানওয়ে ও সংলগ্ন এলাকায় দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম থাকায় যান্ত্রিক সহায়তায় বিমান ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কুয়াশার জেরে বিমান সূচিতে কিছুটা রদবদল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও প্রযুক্তিগতভাবে পরিষেবা সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
পশ্চিমের জেলাগুলিতেও শীতের ঝোড়ো ব্যটিং অব্যাহত। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেলেও হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় কার্যত জবুথবু বাঁকুড়া জেলার মানুষ। আবহাওয়া দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় বাঁকুড়া জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স সহ ধূপগুড়ি ব্লকেও শীত ও কুয়াশার জোড়া ফলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেখানেও তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রির নিচে। বিশেষ করে চা বাগান অধ্যুষিত এলাকা এবং ভুটান সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলগুলি ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাওয়ায় জাতীয় সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তায় যান চলাচল ধীর গতিতে চলছে। দৃশ্যমানতা কম থাকায় অনেক গাড়ি চালককে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। কুয়াশার এই চাদর ভেদ করে গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে সকালের ব্যস্ত সময়ে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া থেকে শুরু করে অফিসযাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
