Bangla NewsKolkata Abhishek banerjee 'Budget is like an empty pitcher', Abhishek pointed out
Abhishek Banerjee: ‘বাজেট পুরো ফাঁকা কলসির মতো’, পুরো বাজেট খতিয়ে পড়ে পয়েন্ট ধরে ধরে বোঝালেন অভিষেক
Abhishek Banerjee: কেন্দ্র সরকারের বাজেট ভাঁওতা ছাড়া কিছু নয়। বলছে, ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করলে, বছরে কোনও ইনকাম ট্যাক্স লাগবে না। বছরে ১২ লক্ষ টাকা আয় মানে, মাসে তাঁর বেতন ১ লক্ষ টাকা।
কলকাতা: সাতগাছিয়ায় সেবাশ্রয় শিবিরে তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেন অভিষেক, বলেন গোটাটাই ভাঁওতা। কী বললেন অভিষেক, পড়ুন…
KEY HIGHLIGHTS
গঙ্গাসাগরে নতুন ব্রিজের কথা বলা হয়েছে। পথশ্রীর জন্য ১৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। PWD-র জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
উত্তরের জেলাগুলোর জন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের তরফে চা বাগানের জন্য, পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর জন্য ৭০০-৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
কেন্দ্র সরকারের বাজেট ভাঁওতা ছাড়া কিছু নয়। বলছে, ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করলে, বছরে কোনও ইনকাম ট্যাক্স লাগবে না। বছরে ১২ লক্ষ টাকা আয় মানে, মাসে তাঁর বেতন ১ লক্ষ টাকা। যে মাসে ১ লক্ষ টাকা আয় করে, তাঁকে তো জিনিসপত্র কিনতে হয়, তাঁকে চা খেতে দুধ-চিনি-চা পাতা সবই কিনতে হয়। জল ছাড়া সবেতেই জিএসটি। তাঁকে জিএসটি বাবদে ৯৮ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। আমি তো আমার ডেটা সোর্স লোকসভার স্পিকারের কাছে জমা দিয়েছি। এরপরও টোল ট্যাক্স, সিকিউরিটি ট্রানজাকশন ট্যাক্স রয়েছে, সার্চ চার্জ রয়েছে। মুদ্রাস্ফিতি যেভাবে বাড়ছে, বছরে ৬ শতাংশ করে বাড়লে, তিন বছরে ১৮ শতাংশ।
বাজেট পুরো ফাঁকা কলসির মতো। ফাঁকা কলসির আওয়াজ বেশি। বাংলার জন্য কী বরাদ্দ করেছে? আমি যদি রাজনৈতিকভাবে দেখি, বিজেপির ১২ জন সাংসদ রয়েছে বাংলায়, বিহারেও ১২ জন সাংসদ রয়েছেন। বিহারকে এত কোটি কোটি বরাদ্দ, বাংলাকে কেন বঞ্চনা? বাংলা মাথা নত করেনি বলে?
এই যে ৪৪ হাজার কোটি টাকা পঞ্চায়েত দফতরকে বরাদ্দ করেছে, এর মধ্যে কি জাত থেকে ধর্ম দেখে বরাদ্দ করা হয়েছে? এটা সুকান্ত মজুমদারকে প্রশ্ন অভিষেকের। মাইনোরিটি দফতরের ক্ষেত্রে বিজেপি বাজেট ১৫৭৫ কোটি টাকা থেকে ৬৮২ কোটি টাকা হয়েছে কেন? ৫৬ শতাংশ কমেছে কেন? মাইনোরিটিরা ভোট দেয় না বলে? জাতির রাজনীতি করে ওরা মুখ থুবড়ে পড়েছে।
সুকান্ত মজুমদারের উচিত আত্মবিশ্লেষণ করা। আর পাঁচ হাজার কম ভোট পেলে, বালুরঘাটে বিজেপি হেরে যেত। পরেরবার আসন ধরে রাখতে পারবে না।
কংগ্রেসের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি মনে করি, একাই লড়ো, একসঙ্গে লড়ো, মানুষ যদি আপনার সঙ্গে থাকে, তাহলে জিতব। যেমন উদাহরণ বাংলা। আমরা তো এখানে একাই লড়েছি, একাই জিতেছি। বিজেপির একটা বিশেষ ব্যাপার হল, বিজেপি মানুষকে ভুল বোঝাতে সিদ্ধহস্ত। এখন বিজেপি দিল্লিবাসীকে বুঝিয়েছে, কেজরীবাল ২০১২-১৩ সাল থেকে তো ছিল। কিন্তু কিছু করেনি। আম আদমি পার্টির লোক, কিছুটা অসফল থেকেছে, কারণ ভুয়ো প্রচারকে কাউন্টার করতে পারিনি। তারও কারণ, একটা নির্বাচিত সরকারকে কাজ করতেই দেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালে বিজেপি অর্ডিন্যান্স করে প্রদেশ সরকার ও দিল্লি সরকারের সমস্ত ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছে। এটাই কেজরীবালের উচিত ছিল মানুষকে বোঝানোর। এই চেষ্টা বাংলাতেও হয়েছিল। বিজেপি রটিয়েছিল, কেন্দ্র থেকে টাকা পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু তৃণমূল সরকার আপনাদের দিচ্ছে না। আমরা বলেছিলাম, চার বছরে কত টাকা পাঠানো হয়েছে, তার তালিকা প্রকাশ করতে। মিথ্যা তো সামনে চলেই আসে।
কেজরীবালের সঙ্গেও এটাই হয়েছে। একজন মুখ্যমন্ত্রীকে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। ক্যাবিনেটের মন্ত্রীদের তিন চার মন্ত্রীকে জেলে ঢুকিয়েছেন, তারপর বলছেন, সরকার কাজ করছে না? আমার মনে হয়, জোট হয়ে লড়লে, নিশ্চয়ই সাফল্য আসত।
ছাব্বিশেও একাই লড়বে তৃণমূল, সেটাই স্পষ্ট করে দিলেন অভিষেক। তিনি বললেন, আগেই তো দিদি সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। একুশেও একাই লড়েছি। একাই লড়ে দারুণ ফল করেছি। একাই লড়ব।
দিল্লিতে বহিরাগত ভোটার ইস্যুতে বলেন, ভোটের মেশিনারি যাঁরা করেন, তাঁরা ভাল করে বুঝতে পারবেন, দিল্লিতে ভোটার তালিকায় ২০২৪এর নির্বাচন থেকে বিধানসভা নির্বাচন, মাঝের ৮ মাসে ৪ লক্ষ লোকের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। এটা গত ১৪ বছরে হয়নি। এবার যারা লড়াই করছি, দিল্লির ক্ষেত্রে বিজেপির সঙ্গে লড়াইয়ে আম আদমি পার্টি এই তথ্যও পরিবেশন করতে পারেনি।