কলকাতা: ভিসিহীন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিস্ফোরক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অপসারিত ভিসি বুদ্ধদেব সাউ। রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতকে নিশানা করলেন তিনি। পিংপং বলের মতো কাজ করা যায় না। মুখ খুললেন বুদ্ধদেব। প্রাক্তন এই উপাচার্যের নিশানায় জুটাও। বুদ্ধদেবের কথায়, “পিংপং বলের মতো অবস্থায় কাজ করা যায় না। আজ রাজ্য সরকারের চিঠি তো কাল রাজ্যপালের চিঠি।”
বর্তমানে উপাচার্যহীন অবস্থায় রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। চার মাস কাজের পর উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউকে অপসারিত করেছেন আচার্য সি ভি আনন্দ বোস। এ প্রসঙ্গে বুদ্ধদেববাবু টিভি ৯ বাংলাকে জানান, “কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং চ্যান্সেলারকে যে ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে, তার বাইরের সমস্ত ক্ষমতা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্বশাসনের মধ্যে পড়ে। এখন যদি বাইরে থেকে কোনও ক্ষমতা কেউ দেখান তাহলে তা বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে।” প্রাক্তন উপাচার্য পরিষ্কার জানিয়েছেন, আইনের শাসন দিয়ে চলে না। তাঁর স্পষ্ট কথা, উপাচার্য না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কর্মে অসুবিধা হবেই।
এরপর জুটাকে একহাত নেন বুদ্ধদেব সাউ। বলেন, “ওরা প্রথম থেকেই আমার পিছনে লেগেছিল। ওরা চায় ওদের পছন্দের উপাচার্য।” বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়েও অভিযোগ করেছেন তিনি। বলেছেন, “যাদবপুরে কলা বিভাগের পিএইচডিতে দুর্নীতি, রিজার্ভেশনে দুর্নীতি হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে জুটা চুপ কেন?”
বুদ্ধদেব সাউয়ের অভিযোগের পাল্টা জবাব জুটার। প্রাক্তন উপাচার্য রাজভবন, বিকাশ ভবন দেখলে অরবিন্দ ভবনের স্বার্থ রক্ষা হবে না। এমনটাই কটাক্ষ জুটার সভাপতি পার্থ প্রতিম বিশ্বাসের। বলেছেন, “ভিসি নিজেদের বোধ বুদ্ধি থাকা উচিৎ। কেন্দ্রের শাসক বা রাজ্যের শাসক তাদের কথায় হ্যাঁ-না করব। তাদের সুরে সুর মিলিয়ে চলব, এই সব করলে তিনি তো পিংপং বল হয়ে যাবেন।”
প্রসঙ্গত, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আগের সন্ধ্যায় আচার্য সি ভি আনন্দ বোস অপরসারণ করেন বুদ্ধদেব সাউকে। জানা যায়, আচার্য বোসের নির্দেশ অমান্য করে সমাবর্তন করছিলেন তিনি। বৈঠক করে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গেও। তারই খেসারত দিতে হয় হয়েছে তাঁকে। এমনই গুঞ্জন ছড়ায়।