
কলকাতা: বিধানসভা অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণের সময় নিয়ে বিভ্রান্তি। টুইটারে নিজেই সে কথা জানিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। আগামী ৭ মার্চ রাত ২টোর সময় অধিবেশন ডাকা হয় বলে টুইট করেন তিনি। যা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এরইমধ্যে রাজ্যপালের টুইট দেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জগদীপ ধনখড়কে ফোন করেন। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ তাঁর টুইটে এমনটাই জানিয়েছেন। টাইপিংয়ের ভুলের কারণেই এই বিভ্রান্তি বলে রাজ্যপালকে মুখ্যমন্ত্রী জানান বলে দাবি কুণালের। যদিও বিজেপি এই ঘটনায় খোঁচা দিয়েছে শাসকদলকে। রাজ্য ও রাজ্যপালের মধ্যে বারবারই সংঘাতের আবহ দেখা গিয়েছে। বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনে রাত দু’টোর সময় রাজ্যপালকে ডাকার ক্ষেত্রেও সেই সংঘাতই রয়েছে বলেই মন্তব্য বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর কটাক্ষ, এই রাজ্য এমন সরকার চালায় যারা রাত ২টো এবং দুপুর ২টোর পার্থক্যও বোঝে না।
এদিন টুইটারে কুণাল ঘোষ লেখেন, ‘রাজ্যপালের টুইট দেখে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ফোন করেন। জানান, এএম শব্দটি টাইপোগ্রাফিকাল ভুল। সর্বত্র পিএম লেখা। এটা বুঝে নিলেই ভাল হত। এদিকে আবার পিএম লিখে প্রস্তাব পাঠাতে মুখ্যমন্ত্রী ২৮/২ মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন। প্রশ্ন হল, রাজ্যপাল টুইটে ক্যাবিনেট পেপার প্রকাশ করলেন কী করে? এই নথি প্রকাশ্যে আনার বিধি ও রীতি নেই। রাজ্যপাল সব রীতি ভাঙছেন। সরকারের কাজে বাধা দেওয়া, বাংলার বিরুদ্ধে কুৎসা, নন ইস্যুকে ইস্যু করতে তিনি ব্যস্ত। রাজ্যপালের পদের গরিমা নষ্ট করে বিজেপির প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি।’
এদিন টুইটে রাজ্যপাল লেখেন, রাত ২ টোয় বিধানসভা অধিবেশন শুরু হওয়ার ঘটনা ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন। কিন্তু, তাঁর দাবি, এটাই মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেই এই ঘোষণা করেছেন রাজ্যপাল। শুধু তাই নয়, কেন এ ভাবে রাত ২ টোয় বিধানসভা অধিবেশন ডাকতে চাইছে সরকার, তার জবাবও তলব করেছেন রাজ্যপাল। মন্ত্রিসভার তরফে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তার প্রতিলিপিও এ দিন টুইট করেছেন রাজ্যপাল।
বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, এটা ইচ্ছাকৃত ভুল বলেই মনে হচ্ছে তাঁর। অন্যদিকে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর কথায়, “রাজ্যে রাত ২টোর সময় বিধানসভা অধিবেশন ডাকা হয়েছে আমরা তাজ্জব হয়েছি। তারপর দেখা গেল রাজ্যপাল স্পষ্ট করেছেন ক্যাবিনেট থেকে তাঁকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে তাতে 2 AM বলেই লেখা হয়েছে। কী সরকার চলছে যে রাত ২টো আর দুপুর ২টোর তফাৎ নেই। দেখার কেউ নেই। সব জো হুজুর। এটা কী করছে সরকার! এত ভুল! একটা সরকার বা তার ক্যাবিনেটের যদি এত ভুল সিদ্ধান্ত হয়, তা হলে এই সরকার যে প্রত্যেকটি পদে ভুল করছে কখনও ইচ্ছাকৃত কখনও অনিচ্ছাকৃত তা স্পষ্ট হয়ে যায়।”