কলকাতা: ১০ নম্বর বরোর করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন কলকাতা পৌরসভা। আগামী ২০ জানুয়ারি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকল কলকাতা পৌরসভা। বৈঠকে থাকবে স্বাস্থ্য দফতর ও পুরসভার বিভিন্ন বিভাগ।
এই নিয়ে মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ বলেন, “১০ নম্বর বরো হচ্ছে ১২টা ওয়ার্ড নিয়ে। আমাদের সাধারণত সব কটা বরো ৭-৯ ওয়ার্ড নিয়ে হয়। ১০ নম্বর বরোর ওয়ার্ডের সংখ্যা বেশি। এলাকাটাও বিশাল। আর এখানে বহুতলের সংখ্যা প্রচুর। দেখা যাচ্ছে এই সমস্ত আবাসনের সংক্রমণের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। যে নিয়ম বিধিটা সংক্রমিত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মানা উচিত, সে ব্যাপারে যথেষ্ট শিথিলতা দেখা দিচ্ছে।”
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শহরের বড় আবাসনগুলিতে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। এ নিয়ে একটি রিপোর্টও জমা পড়েছে নবান্নে। এমনকি আরবানা, স্বর্ণমণি, শালবনি, এবং নিউটাউনের একাধিক আবাসনেও করোনা সংক্রমণের প্রকোপ বেশি। এই সব আবাসনে করোনা সংক্রমণ কীভাবে ঠেকানো যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর ও নবান্নের কর্তাব্যক্তিরা।
স্বাস্থ্য অধিকর্তারা বলছেন, আবাসনগুলিতেই সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণ হচ্ছে। এই মুহূর্তে আবাসনগুলিই উৎকন্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশাসনের। এরই মধ্যে নবান্নে একটি রিপোর্ট জমা পড়েছে। আবাসনগুলিতে সংক্রমণ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। নিউটাউনের আবাসনগুলির ক্ষেত্রে ফোরাম ও কমিটিগুলিকে নিয়ে একটি বৈঠক করার কথা ভাবা হচ্ছে। করোনার স্বাস্থ্যবিধি যাতে তাঁরা মেনে চলেন, সে ব্যাপারে সতর্ক করা হবে তাঁদের। কমিটিগুলিকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঝুপড়ি অঞ্চল ঘিঞ্জি, উল্টোদিকে আবাসনগুলো অনেকটাই খোলামেলা। তা সত্ত্বেও কেন আবাসনগুলিতে হু হু করে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ? অভিজাত আবাসনগুলিতে করোনা ছড়ানোর অন্যতম কারণ, বর্ষবরণের উৎসব-পার্টি-হুল্লোড়, আর লিফটের বহুল ব্যবহার।
এ প্রসঙ্গে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “সংক্রমণটা হাই রাইজ়ে বেশি হচ্ছে। আর সেটা লিফটের ব্যবহারের ক্ষেত্রেই বেশি হচ্ছে। লিফটের সুইচ বেশি ধরছেন আবাসিকরা। আর লিফট বন্ধ থাকায়, বাতাসও খেলছে না। ফলে আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম, যাতে স্প্রে করা হয়।” পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই কলকাতায় কনটেইনমেন্ট ও মাইক্রো কনটেইনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে। হচ্ছে মাইকিংও। তবে স্বাস্থ্য অধিকর্তরা বলছেন, অভিজাত আবাসনগুলির ‘কেয়ারলেস’ মনোভাবটা কাটিয়ে উঠতে হবে ।
এদিকে, কলকাতা ও তার সংলগ্ন এলাকাগুলিতে যেভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছিল, অর্থাৎ সেই পিকটা থেকে এখন সংখ্যাটা অনেকটাই কমতে শুরু করেছে। দৈনিক বুলেটিন অন্তত সেই কথাই বলছে। যদিও তা নিয়ে তর্কও রয়েছে। কারণ অনেকেই বলছেন, অনেক মানুষ টেস্ট করছেন না। দৈনিক করোনা বুলেটিনটাকে যদি আমরা মানদণ্ড হিসাবে ধরি, তাহলে দেখা যাবে, আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। মৃত্যু কিন্তু সেই নিরিখে বাড়ছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, দৈনিক মৃত্যু ৩৬-৩৯ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যা বুলেটিনে প্রতিফলিত হচ্ছে, তার থেকেও সংখ্যাটা বেশি হতে পারে। আগামী দিনে সেটা টের পাওয়া যাবে। তৃতীয় ঢেউ পরবর্তী পর্যায়ে মৃত্যুর হার নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য দফতরও।
আরও পড়ুন: তৃতীয় ঢেউ পরবর্তীতে মৃত্যুর হার নিয়ে উদ্বেগ! তবুও কেন রক্ষণে ঢিলে?