Naushad Siddique: হাসিনাকে চিঠি, কলকাতায় মানববন্ধন; বাংলাদেশ নিয়ে দিনভর তৎপরতায় নওশাদ সিদ্দিকি

Bangladesh: নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, "এই মানববন্ধনের একটাই উদ্দেশ্য বাংলাদেশে যে ভাবে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ছে তা রুখতে হবে।"

Naushad Siddique: হাসিনাকে চিঠি, কলকাতায় মানববন্ধন; বাংলাদেশ নিয়ে দিনভর তৎপরতায় নওশাদ সিদ্দিকি
মানববন্ধনে আইএসএফ নেতারা। নিজস্ব চিত্র।

কলকাতা: সাম্প্রদায়িক সহিংসাকে সামনে রেখে এই মুহূর্তে উত্তপ্ত বাংলাদেশ (Bangladesh)। এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশন অফিসের সামনে মানব বন্ধন পালন করল আইএসএফ। দলীয় বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির নেতৃত্বে এই কর্মসূচি পালিত হয়। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, “এই মানববন্ধনের একটাই উদ্দেশ্য বাংলাদেশে যে ভাবে পুজোমণ্ডপের মধ্যে তাণ্ডবের জেরে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ছে তা রুখতে হবে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দিতে হবে সে দেশের সরকারকে।”

রবিবার একদিকে যেমন বাংলাদেশে স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি লিখেছেন ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। অন্যদিকে আবার সে দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবিতে কলকাতায় মানববন্ধনেও নেমেছে তাঁর দল। ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ নিজে যার পুরোভাগে ছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গে আইএসএফের যে রাজ্য কমিটি তার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ মাইতি এদিন বলেন, “বাংলাদেশে পুজো মণ্ডপে অশান্তি ঘিরে গোটা বাংলাদেশ আজ উত্তাল। বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর বাংলাদেশে যে ভাবে অত্যাচার নামিয়ে আনা হয়েছে এবং বাংলাদেশের এই অশান্তিকে এপার বাংলাতেও কেউ কেউ নিয়ে আসার চেষ্টা করছে! তাতে আমরা আতঙ্কিত। তবে বাংলাদেশের আঁচ আইএসএফ কিছুতেই ভারতের মাটিতে আসতে দেবে না। সে কারণে এই প্রথম আমাদের একমাত্র বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি লিখেছেন। ওখানে হিন্দুরা যেন নিরাপদে থাকেন তার সুরক্ষা দেওয়ার দাবিতে এই চিঠি।”

প্রসঙ্গত, এদিনই নওশাদ সিদ্দিকি শেখ হাসিনাকে চিঠিতে লিখেছেন, ‘উৎসবের মরসুমে বাংলাদেশে যে ঘটনা ঘটেছে তা কখনওই অভিপ্রেত নয়। যে ধরনের অশান্তি বাংলাদেশে ছড়াচ্ছে তা আটকানো দরকার। মানুষের প্রাণ সংশয় হচ্ছে। আমরা আশা করছি, আপনি যথাযথ পদক্ষেপ করে সকলের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন। দক্ষিণ এশিয়ায় একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান, সামাজিক ও ধর্মীয় সংহতি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ধর্ম নিয়ে নিজেদের মতো ভাবনাচিন্তা পোষণ করা অনেক সময় আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠে। সাম্প্রদায়িক হয়ে ওঠে। এই কালপ্রিটদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ধরে এনে শাস্তি দেওয়া দরকার।’

শেখ হাসিনার কাছে নওশাদের আবেদন, ‘দু’তরফেই ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক আইএসএফ তেমনটাই চায়। যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে শান্তি, অগ্রগতি ও সংহতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে। বৈদেশিক রীতিনীতিকেও যেন সর্বক্ষেত্রেই মান্যতা দেওয়া হয়। তাই এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যা চলছে, আপনার সরকার এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলেই আশা রাখছি।’

গত বুধবার থেকেই বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হতে থাকে, কুমিল্লার একটি মণ্ডপে দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর ছড়ায় কুমিল্লার এই মণ্ডপে সংখ্যাগুরুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। যার জেরে চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ, চট্টগ্রামের বাঁশখালি, কক্সবাজারের পেকুয়ায় পুজো মণ্ডপে ভাঙচুর চলে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হতে থাকে বাংলাদেশ।

এই ঘটনায় ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে নামে বাংলার আরএসএস-সহ বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। সিপিএমও এর কড়া সমালোচনা করেছে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “খুব বিপদজনক। শারদোৎসবের প্রাঙ্গণকে কলুষিত করা হল। এটা শুধু কোনও ধর্মের উপর আঘাত না, মানবতার উপর আঘাত।”

এরই মধ্যে এবার সরব আইএসএফও। তবে আইএসএফের এই ময়দানে নামা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এ রাজ্যে একুশের বিধানসভা ভোটের সময় থেকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি যে ভাবে আব্বাস সিদ্দিকির দলকে ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে তকমা লাগিয়ে দিয়েছে, এবার বোধহয় তা মুছে সর্বতোভাবে নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণে মরিয়া আইএসএফ।

আরও পড়ুন: Naushad Siddique: ‘দোষীদের কড়া শাস্তি দিন’, শেখ হাসিনাকে চিঠি লিখলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla