
কলকাতা: রবিবার পুরভোটে অশান্তির একাধিক অভিযোগ ওঠে। এরপরই রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় টুইটারে জানান, রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে রাজভবনে তলব করা হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদ রাজভবনে পৌঁছন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সৌরভ দাস। প্রায় ১ ঘণ্টা সেখানে ছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় কমিশনারের কাছে জানতে চান কেন এমন অশান্তির অভিযোগ উঠল ভোটে। কোথাও পুনর্নির্বাচনের পরিস্থিতি রয়েছে কি না তা আরও ভাল করে খতিয়ে দেখার জন্যও তিনি কমিশনার সৌরভ দাসকে বলেন বলেই দাবি সূত্রের। রাজভবন সূত্রে খবর, রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে রাজ্যপাল জানতে চান, কী এমন পরিস্থিতি হল যে পুলিশ থাকা সত্ত্বেও কেন অশান্তি হল। কেন এমনও শুনতে হল, একজনের ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছেন? কেনই বা প্রার্থীরা আক্রান্ত হলেন তা নিয়েও জানতে চান রাজ্যপাল। সূত্রের দাবি, রাজ্যপাল প্রশ্ন করেন, কমিশন বলেছিল সুষ্ঠুভাবে ভোট হবে। রাজ্য পুলিশই সুশৃঙ্খলভাবে ভোট করাতে পারবে। তাহলে কেন তা করা গেল না? ভোটে অশান্তি কেন রুখতে পারল না কমিশন? রাজ্য পুলিশ দিয়ে নির্বাচন করালে যে ভোটে অশান্তি হবে, সেটা কেন আঁচ করতে পারল না রাজ্য নির্বাচন কমিশন?
এমনও সূত্রের দাবি, এ সমস্ত প্রশ্নের রেশ ধরেই রাজ্যপাল বলেন পুনর্নির্বাচন প্রয়োজন কি না তা খতিয়ে দেখা হোক। জবাবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, জেলাশাসকদের রিপোর্ট হাতে আসার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু তাঁর পক্ষে বলা সম্ভব। এরপরই রাজ্য নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে, দু’টি বুথে তারা মঙ্গলবার ফের ভোট করাবে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রীরামপুর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাত নম্বর বুথ মহেশ কলোনি যুব কিশোর সংঘ এবং দক্ষিণ দমদমের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ দমদমের ৪ নম্বর বুথ।
কমিশন সূত্রে জানা যায়, মোট ইভিএম ভাঙা হয়েছিল ২৪টি। ইভিএম ভাঙা ও খারাপের সংখ্যা মোট ৮৩টি। তা হলে কেন মাত্র দু’টি বুথে পুনর্নির্বাচন করছে কমিশন? রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ইভিএম ভাঙলেও তথ্য বিলোপ হয়নি। তাই সব বুথে পুনর্নির্বাচন নয়। জেলাশাসকদের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আংশিকভাবে ইভিএম ভাঙলেও গণনার জন্য সেখান থেকে তথ্য বের করা সম্ভব। এই ব্যাখ্যাকে সামনে রেখেই মাত্র ২টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত কমিশনের।
আরও পড়ুন: CBI: ‘সিবিআইয়ের তদন্তের হাল যদি এই হয়…’, হাইকোর্টে তীব্র ভর্ৎসনা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে