কলকাতা: রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন কলকাতা পুরনিগমও। ইতিমধ্য়েই কলকাতা পুরনিগমের নিকাশি বিভাগের মেয়র পারিষদ তারক সিং-এর বাড়ি থেকে মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছে। ভবানী ভবনেও মিলেছে মশার লার্ভা। এমন পরিস্থিতিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের গলাতেও যথেষ্টই উদ্বেগের সুর। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের থেকে প্রকাশিত শুক্রবারের হিসেব অনুযায়ী, রাজ্যে শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ২৯৫ জনের ডেঙ্গি পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গি ধরা পড়েছে ৫৮৪ জনের শরীরে। আক্রান্তদের মধ্যে মধ্যে শেষ ২৪ ঘণ্টায় কেবল সরকারি হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন ২০৫ জন। এই মুহূর্তে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালগুলিতে ভর্তি ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা ৫৬৬। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হতে থাকায় রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর থেকে ইতিমধ্য়েই একটি উপদেশাবলী জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের জারি করা ওই নির্দেশিকায় রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজ, জেলা হাসপাতাল এবং অন্যান্য সরকারি হাসপাতালগুলিতে জ্বরের জন্য পৃথক ক্লিনিক তৈরির কথা বলা হয়েছে। যাতে জ্বরের রোগীদের ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গির পরীক্ষার জন্য আউটডোরে অপেক্ষা করে সময় নষ্ট না করতে হয়। যদি মিউনিসিপ্যাল হাসপাতালগুলি থেকে ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গির পরীক্ষা করানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে ওই রোগীকে আবার আউটডোরে দেখাতে যেতে বলা যাবে না। সরাসরি ল্যাবরেটরি থেকে ওই রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হবে। যাতে আবার আউটডোরে দেখাতে যাওয়া এবং তারপর আবার ল্যাবরেটরিতে যাওয়া… এইসবের কারণে রোগীর অতিরিক্ত খরচ না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি আশা কর্মী কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে এলাকায় এলাকায় জ্বরের সামগ্রিক চিত্রের উপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে কারও জ্বর হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। যদি কারও জ্বর থাকে, তিনি যাতে দ্রুত ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গি পরীক্ষা করান, সেই পরামর্শ দেবেন আশাকর্মীরা। পাশাপাশি, বেসরকারি স্তরে যাঁরা চিকিৎসা পরিষেবা দেন, তাঁদের জন্য আরও একবার ডেঙ্গি মোকাবিলার বিষয়ে প্রশিক্ষণের কথা বলা হয়েছে।