শুধু মা নন, সন্তান জন্মের পর মানসিক অবসাদে ভোগেন বাবারাও! কেন জানেন?
এর পাশাপাশি রয়েছে তীব্র অনিদ্রা। নবজাতকের কান্নায় রাতের পর রাত ঘুম না হওয়া যে কোনও মানুষের মানসিক স্থিতিশীলতা নাড়িয়ে দিতে পারে। সঙ্গে যোগ হয় আর্থিক দুশ্চিন্তাও "সন্তানের ভবিষ্যৎ সামলাতে পারব তো?" বা "সংসারের বাড়তি খরচ আসবে কোথা থেকে?"—এই ধরণের চিন্তাগুলো কুরে কুরে খায় নতুন বাবাকে।

সন্তান পৃথিবীতে আসার আনন্দ যে ঠিক কতটা তা বলে বোঝানো যায়না। বোঝেন শুধু নতুন বাবা মায়েরাই। তবে জানেন কী এই অনাবিল আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়াবহ বিষণ্ণতা। সাধারণত সকলেই মায়েদের ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’ নিয়ে আলোচনা করেন। কিন্তু জানলে অবাক হবেন সন্তান জন্মের পর বাবারাও চরম বিষণ্ণতার মধ্য দিয়ে যেতে পারেন। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘প্যাটারনাল পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, পুরুষদের এই লড়াইটা অনেক বেশি নিঃশব্দ এবং একাকীত্বের।
কেন ডিপ্রেশনে ভোগেন নতুন বাবারা?
অনেকেই মনে করেন সন্তান জন্ম দেওয়ার শারীরিক কষ্ট যেহেতু মা সহ্য করেন, তাই বিষণ্ণতা কেবল তাঁরই হওয়ার কথা। কিন্তু গবেষণা বলছে অন্য কথা। সন্তান জন্মের পর একজন বাবার শরীরেও বড়সড় হরমোনগত পরিবর্তন আসে। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, এই সময় পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায় এবং ইস্ট্রোজেন ও অক্সিটোসিনের মতো হরমোন বেড়ে যায়। প্রকৃতি আসলে বাবাকে শিশুর সঙ্গে বন্ডিং তৈরি করতে সাহায্য করে, কিন্তু এই হরমোনের ওঠা-নামা অনেক সময় মেজাজ বিগড়ে দেয় বা মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এর পাশাপাশি রয়েছে তীব্র অনিদ্রা। নবজাতকের কান্নায় রাতের পর রাত ঘুম না হওয়া যে কোনও মানুষের মানসিক স্থিতিশীলতা নাড়িয়ে দিতে পারে। সঙ্গে যোগ হয় আর্থিক দুশ্চিন্তাও “সন্তানের ভবিষ্যৎ সামলাতে পারব তো?” বা “সংসারের বাড়তি খরচ আসবে কোথা থেকে?”—এই ধরণের চিন্তাগুলো কুরে কুরে খায় নতুন বাবাকে।
আমাদের সমাজে একটা ধারণা প্রচলিত যে, পুরুষ মানেই শক্তপোক্ত, তাঁকে ভাঙলে চলবে না। এই কথাই ভেবে বাবারা তাঁদের মনের কষ্ট চেপে রাখেন। অনেক বাবা মনে করেন, নিজের কষ্টের কথা বললে পাছে লোকে তাঁকে দুর্বল ভাবে! পরিসংখ্যন বলছে, নতুন বাবাদের মধ্যে মাত্র ৩.২ শতাংশ মানুষ মানসিক সাহায্যের জন্য বিশেষজ্ঞের কাছে যান। বাকিরা মুখ বুজে সহ্য করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে পারিবারিক সম্পর্কের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
লক্ষণগুলো চিনে নিন
বাবার ডিপ্রেশন সবসময় মায়েদের মতো কান্না দিয়ে প্রকাশ পায় না। অনেক সময় দেখা যায় বাবা অকারণে রেগে যাচ্ছেন, মেজাজ হারাচ্ছেন কিংবা পরিবার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। সব সময় একটা অস্থিরতা কাজ করা বা কাজে মন দিতে না পারা—এগুলোও কিন্তু বড় লক্ষণ।
সমাধানের পথ কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা থেকে বেরনোর প্রথম ধাপ হলো কথা বলা। বাবাদের বুঝতে হবে যে তাঁরা ‘বেবিসিটার’ নন, বরং সন্তানের প্রাথমিক পরিচর্যাকারী। পরিবারের সদস্যদেরও উচিত বাবার মানসিক অবস্থার দিকে নজর দেওয়া। যদি সমস্যা গুরুতর হয়, তবে লজ্জা না পেয়ে থেরাপি বা কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখবেন, একজন সুস্থ বাবাই পারেন একটি সুস্থ ও হাসিখুশি পরিবার গড়ে তুলতে।
