
ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে সরস্বতী পুজো। বসন্তের শুরুতেই এই উত্সব পালন করা হয়, বলে একে বসন্ত পঞ্চমী। শুধু তাই নয়, হিন্দু পঞ্চাঙ্গ মতে প্রতি বছর মাঘ মাসের শুক্ল পঞ্চমী তিথিতে পালিত হয় বাঙালির প্রেম দিবস।

শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, সারাদেশেই পালিত হয় সরস্বতী পুজো। বসন্ত মানেই সরস্বতী পুজো, আবার এই ঋতু মানেই পালিত হয় হোলি। বাংলায় দোলযাত্রা পালিত হলেও সারাদেশে হোলির উত্সব পালিত হয়। অনেকেই হয়তো জানেন না যে, সরস্বতী বন্দনার দিন থেকেই দেশের এই জায়গায় শুরু হয় হোলি উত্সব।

হিন্দু ধর্মে, বসন্ত পঞ্চমীর দিনে হোলির দিন পতাকা জ্বালানো হয়। অর্থাৎ এই দিন থেকেই শুরু হয়েছে হোলি উৎসব। চলতি বছর, ১৪ ফেব্রুয়ারি হোলির প্রথম রঙিন উত্সব শুরু হয়। এদিনের পর থেকেই গোটা ব্রজধামে হোলির রঙের বর্ষণ শুরু হবে।

ব্রজধামে হোলির উত্সব এক বা দুই দিন নয়, টানা ৪০ দিন ধরে চলে এই রঙিন উত্সব। ব্রজধামের বরসানা গ্রামের রাধারানী মন্দির থেকে শুরু হয় হোলির প্রথম পুজো। কথিত আছে, এখানেই রাধার জন্ম হয়েছিল। বসন্ত পঞ্চমীর দিন থেকেই শুরু হয় হোলির প্রস্তুতি। সমস্ত গ্রাম হোলির রঙে রঙিন হয়ে ওঠে, পাশাপাশি লোকগানের সুর সারাগ্রাম জুড়ে ধ্বনিত হতে থাকে।

হিন্দু ক্যালেন্ডার মতে, আগামী ২৪ ও ২৫ মার্চে সারা দেশজুড়ে পালিত হবে হোলির উত্সব। কিন্তু ব্রজধামে, বসন্ত পঞ্চমীর দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় রঙিন উত্সব। চলে টানা ৪০ দিন ধরে। ক্যালেন্ডার অনুসারে, এ বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি বসন্ত পঞ্চমীর উত্সব পালিত হবে।

কথিত আছে, এদিন ব্রজের বরসানা গ্রামের রাধারানী মন্দিরে রাধারাণীকে প্রথম আবির নিবেদন করা হয়। রাধারানীকে আবির দেওয়ার পর মথুরার বাঁকে বিহারী মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের পায়ে আবির নিবেদন করা হয়। এরপর সকলে মিলে নানা রঙের আবির নিয়ে খেলায় মত্ত থাকেন।

বসন্ত পঞ্চমীর দিন বাঁকে বিহারী মন্দিরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে রঙ ও আবির নিবেদনের পর ভক্তদের জন্য রঙের ডালি সাজানো হয়। এ দিনে, মন্দিরের পুরোহিতরা প্রথম আবির ছড়িয়ে দিয়ে হোলি উত্সব শুরু করেন।

শুধু তাই নয়, মন্দিরে আগত সব ভক্তদের প্রসাদ হিসেবে আবির প্রয়োগ করা হয়। এদিন থেকে হোলি পর্যন্ত গোটা ব্রজের সৌন্দর্য দেখার মতো। এই সৌন্দর্যের কথা দেশ ছাড়িয়ে এখন সারা বিশ্বের মঞ্চে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে দেখা মেলে বহু বিদেশিদেরও। তাঁরাও সামিল হন এই রঙিন আনন্দ উত্সবে।

হোলি খেলার পাশাপাশি এই গ্রামে রয়েছে আরও একটি প্রাচীন প্রথা। বারসানা গ্রামে ধুমধাম করে পালিত হয় লাঠমার উত্সব। লাঠমার উত্সব ও হোলি খেলার আনন্দ দেখতে সারা বিশ্ব থেকে পর্যটকরা ভিড় করেন। সাধারণত, বারসানা ও নন্দগাঁওয়ের দেখা যায় এই লাঠমার হোলি। এ উৎসব একতা ও ভালোবাসার প্রতীক।