বিদেশ ভ্রমণ করতে গেলে পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক। আপনি কোন দেশের নাগরিক, তার পরিচয় বহন করে এই নথি। ভারতীয়দের নাগরিকদের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পাসপোর্ট। ভারত ছেড়ে অন্য কোনও দেশে যেতে গেলে এই জিনিসটি লাগবেই। সাধারণত ভারতীয়রা যে পাসপোর্ট ব্যবহার করেন তার রং হয় নীল।
নীল ছাড়াও আরও দুই ধরনের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভারতীয়রা। যাদের মধ্যে কেউ মেরুন আবার কেউ সাদা পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। ঠিক যেমন রয়েছে বলিউডের 'বাদশা' শাহরুখ খানের। তবে সবাই চাইলেই কিন্তু মেরুন রঙের পাসপোর্ট পেতে পারেন না। তাহলে শাহরুখ খান কেন পান মেরুন রঙের পাসপোর্ট? কারা ব্যবহার করতে পারেন এই পাসপোর্ট, জানেন?
সাধারণত, বেশিরভাগ ভারতীয়কে নীল পাসপোর্ট দেওয়া হয়। এই পাসপোর্ট বিদেশ ভ্রমণের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীল পাসপোর্ট ব্যবহার করে আপনি কর্মসূত্রে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি নানা প্রয়োজনে অনুমতি নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন।
তবে কয়েকজনকে নীলের বদলে সাদা পাসপোর্ট দেওয়া হয়। এটি সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণকারীদের দেওয়া হয়। যদি কারও কাছে এই পাসপোর্ট থাকে, তার অর্থ তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হতে পারেন। মূলত যাঁদের সরকারি কাজে ঘন ঘন বিদেশ যাত্রা করতে হয়, তাঁরাই এই পাসপোর্ট পেয়ে থাকেন।
আবার কিং খানের মতো হাতে গোনা কয়েকজন বিশেষ মানুষের কাছে রয়েছে মেরুন রঙের পাসপোর্ট। আসলে ভারত সরকারের নিয়ম অনুসারে কূটনীতিক বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মেরুন পাসপোর্ট দেওয়া হয়। ভারত সরকারের বিদেশ মন্ত্রক কর্তৃক এই পাসপোর্ট জারি করা হয়।
এই পাসপোর্ট যাঁদের কাছে কাছে আছে তাঁদের জন্য বিদেশী অভিবাসন নীতিও সহজ হয়ে ওঠে। এই পাসপোর্ট যাঁদের থাকে তাঁদের আন্তর্জাতিক সফরের জন্য ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয় না। শাহরুখ খান তো কূটনীতিক বা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নয়। তাহলে তিনি কেন মেরুন রঙের পাসপোর্ট ব্যবহার করেন?
অভিনয় জগতের অন্যতম নাম শাহরুখ খান। তাঁর খ্যাতি কেবল দেশেই সীমিত নয়। গোটা বিশ্ব বিদিত। তাঁর এই খ্যাতি, গ্রহণযোগ্যতা এবং ভারতীয় সিনেমার প্রতি তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি জানাতেই ভারত সরকার এই বিশেষ পাসপোর্ট দ্বারা তাঁকে সম্মানিত করা হয়।
যদিও ইন্ডিয়া ডট কমের একটি প্রতিবেদন অনুসারে শাহরুখ খান মেরুন পাসপোর্ট ব্যবহার করেন কি না এই বিষয়ে কোনও তাঁর বা তাঁর টিমের কাছ থেকে কোনও নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। তবে কিং খানের কাছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর গোল্ডেন ভিসা রয়েছে। যা শাহরুখকে দীর্ঘ সময় সেই দেশে থাকার এবং প্রয়োজনে পড়াশোনা করা বা জীবিকা নির্বাহের সুযোগ করে দেয়, তাও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই।