
৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন মনমোহন সিংহ। ১৯৩২ সালে বর্তমানের পাকিস্তানে জন্ম গ্রহণ করেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সম্পর্কে বিশিষ্ট্য ব্যাক্তিরা অনেক কথাই বলছেন। তবে একটি সাক্ষাৎকারে মনমোহন সম্পর্কে এক বিশেষ অজানা তথ্য ফাঁস করেন কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লা।

বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন মনমোহন সিংহ। তবে রাজীব শুক্লা জানিয়েছেন জীবনের শেষ দিন অবধিও নিজের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পারেননি, এক সময়ে দেশের অন্যতম সবচেয়ে শক্তিধর ব্যাক্তি। যা নিয়ে সারা জীবন আফসোস করেছেন তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে জানা যায়, ১৯৩২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের পঞ্জাবে জন্ম নেন মনমোহন সিংহ। দেশভাগের সময়, পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে চলে আসতে বাধ্য হন তিনি এবং তাঁর পরিবার। পাকিস্তান ছেড়ে চলে গেলেও সেই জায়গার স্মৃতি রয়েই গিয়েছে তাঁর মনে।

রাজীব শুক্লা জানান, বিদেশে কর্মরত অবস্থায় পাকিস্তানি এক বন্ধু ছিল মনমোহনের। তাঁর সঙ্গে রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়েছিলেন মনমোহন সিংহ। কিন্তু সেই সময় নিজের শহরে যেতে পারেননি তিনি।

মনমোহন সিংহের বাল্যকালে মা মারা যায় তাঁর। ছোটবেলা থেকেই দাদার কাছে লালিত-পালিত হন তিনি। কিন্তু দেশভাগের দাঙ্গা তাঁর দাদাকেও কেড়ে নেয় তাঁর কাছ থেকে। দাদার মৃত্যু মনমোহনের মনে গভীর ছাপ ফেলে। এর পরে পেশোয়ারে বাবার কাছে চলে আসেন তিনি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী যখন হাইস্কুলে পড়ত, সেই সময় দেশভাগের কারণে পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে চলে আসতে হয় তাঁদের।

মনমোহন সিংহের শেষ ইচ্ছা ছিল একবার পাকিস্তানে গিয়ে নিজের গ্রাম থেকে ঘুরে আসা। যে গ্রামে তিনি বড় হয়েছেন তা প্রাণ ভরে দেখে আসা। যে স্কুলে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা হয়েছিল সেই স্কুল দেখতে চেয়েছিলেন তিনি।

রাজীব শুক্লা জানান, প্রধানমন্ত্রী হাউসে মনমোহন সিংহের সঙ্গে বৈঠকের সময় পাকিস্তানে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। রাজীব শুক্লা যখন মনমোহনকে বাবার বাড়ি দেখতে চান কি না! উত্তরে মনমোহন বলেন, "আমার বাড়ি অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এখন আমি সেই স্কুল দেখতে চাই যেখানে আমি চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছি।"

যে স্কুলে মনমোহন সিংহ প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেছিলেন সেই স্কুল দেখার সুযোগ হয়নি তাঁর। তবে পাকিস্তানের গাহ গ্রামে যে স্কুলে তিনি পড়াশোনা করেছিলেন সেটি এখন মনমোহন সিংহ গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুল নামে পরিচিত।