
নব্বইয়ের দশকে ভারতীয় দলের ক্রিকেটার ও বলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রীর প্রেম। বিনোদনের পাতা, ম্যাগাজিনের ছত্রে ছত্রে তাঁদের প্রেমের কিসসা। জাতীয় দলের চকোলেট বয় বলে পরিচিত অজয় জাডেজা এবং বলিউডের ধকধক গার্ল মাধুরী দীক্ষিত মন দেওয়া নেওয়া শুরু করেছিলেন একটি পত্রিকার জন্য ফটোশুটের পর। (ছবি:টুইটার)

পত্রিকার প্রচ্ছদে অজয়, মাধুরীর হাসিমুখে ছবি দেখে সিনে ও ক্রিকেট ভক্তদের মুখ থেকে একটাই শব্দ বেরিয়েছিল, বাহ্। ক্রিকেট-বলিউড জগতের দুই তারা যে প্রেমের সাগরে ভাসছেন, সে খবর কানে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল। (ছবি:টুইটার)

মাধুরীকে ক্রিকেট জগত না টানলেও রূপোলি দুনিয়ার মোহে ভেসে গিয়েছিলেন জাডেজা। বাহুডোরে তাঁর প্রথম সারির অভিনেত্রী। নওয়াননগরের রাজপরিবারের সন্তান জাডেজা নায়কদের চেয়ে কোনও অংশে কম ছিলেন না। তাই ক্রিকেটের পাশাপাশি রূপোলি পর্দায় নিজেকে দেখতে চেয়েছিলেন। মাধুরীর কাছে আবদার করতেই হিন্দি সিনেমার তাবড় তাবড় পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন অভিনেত্রী।(ছবি:টুইটার)

মাধুরী-জাডেজার প্রেমের যত এগিয়েছে ততই ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স তলানিতে নেমেছে। একটা সময় রানের খরা চলছিল অজয়ের ব্যাটে। অজয়ের পরিবার এর পিছনে মাধুরীর সঙ্গে সম্পর্কে দায়ী করতেন। তাছাড়া, সাধারণ মরাঠি ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে হওয়ায় মাধুরীকে পুত্রবধূ হিসেবে পছন্দ ছিল না জাডেজা পরিবারের। (ছবি:টুইটার)

পরিবারের আপত্তি মানতে চাননি জাডেজা। মাধুরীকেই মন প্রাণ সমর্পণ করেছিলেন। গার্লফ্রেন্ডের সুপারিশে বলিউডে প্রবেশের পথও প্রায় পাকা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ১৯৯৯ সালে ভারতীয় ক্রিকেটে ওঠা একটি ঝড় সাজানো বাগান তছনছ করে দেয়।(ছবি:টুইটার)

ম্যাচ গড়াপেটার মতো কলঙ্ক লাগে অজয় জাডেজার গায়ে। রাজপরিবারের ছেলে টাকার লোভে দেশ বিক্রি করতেও পিছপা হননি। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে যুক্ত হয়ে ৫ বছরের জন্য নির্বাসিত হন। তখনই পিছিয়ে আসে মাধুরীর পরিবার। মেয়ের কেরিয়ার ও সম্মান বাঁচাতে দীক্ষিত পরিবার জাডেজার সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে।(ছবি:টুইটার)

আরও এক ক্রিকেট-বলিউডের প্রেম কাহিনি অপূর্ণ থেকে যায়। সেবছরই বিয়ে করে আমেরিকায় পাড়ি দেন মাধুরী। ২০০১ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন জাডেজা। রাজনীতিক জয়া জেটলির মেয়ে অদিতিকে বিয়ে করেন।(ছবি:টুইটার)

ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সব বিভাগেই অনবদ্য ছিলেন অজয় জাডেজা। ভারতীয় দলের বিগহিটার বলে পরিচিত ছিলেন। শারজায় ১ ওভারে ৩ উইকেট তাঁর সংক্ষিপ্ত ও কলঙ্কিত কেরিয়ারের উজ্জ্বলতম এক অধ্যায়। ২০০৩ সালে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাসন উঠলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর ফিরতে পারেননি জাডেজা।(ছবি:টুইটার)

মাধুরীর সঙ্গে প্রেমটা কেঁচে গেলেও অভিনয়ের শখ পূরণ করে নিয়েছিলেন জাডেজা। ২০০৩ সালে ‘খেল’ সিনেমায় অভিনয় করেন সুনীল শেট্টি এবং সানি দেওলের সঙ্গে। এর ৬ বছর পরে তিনি অভিনয় করেন ‘পল পল দিল কে সাথ’ ফিল্মে। এ ছাড়া সুশান্ত সিং অভিনীত ‘কাই পো চে’ ছবিতে তিনি ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হিসেবে ক্যামিয়ো ভূমিকায় ছিলেন। (ছবি: টুইটার)