খেজুরে আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বেশ কয়েকটি ভিটামিন রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, কপার, ম্যাঙ্গানিজ এবং ম্যাগনেসিয়াম একসঙ্গে খেজুরকে সুপারফুড করে তোলে। তাই সেহরি ও ইফতারের খাদ্যতালিকায় এই ফল সবসময় থাকে।
সেহরির পর আবার ইফতারে খাবার খাওয়া। মাঝে একটা দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান। সেহরিতে যদি খেজুর খান, তাহলে এটি আপনার দিনভর এনার্জিতে ভরিয়ে রাখবে। এর সঙ্গে রমজান মাসে কোনও ভাবেই শরীরে পুষ্টির খাটতি দেখা দেবে না।
একই সঙ্গে, ইফতারের সময়ও রোজা ভাঙার পর যে খাবারটি প্রথম খাওয়া হয় তা হল খেজুর। এর কারণও একই, পুষ্টি। খেজুর যেহেতু পুষ্টিতে ভরপুর, তাই ইফতার হোক বা সেহরি সবেতেই রাখা হয়। তাছাড়াও খেজুর এমন একটি খাবার যা উপবাস ভাঙার পর খাওয়া যেতে পারে। রোজা না করলেও ব্রেকফাস্টে আপনি খেজুর খেতে পারেন।
যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য খেজুর দুর্দান্ত। এগুলো পটাসিয়াম এবং অদ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ। তবে এই বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ অনেক সময় শরীরে উচ্চ পটাশিয়ামের মাত্রায় খেজুর খাওয়া ফলদায়ক হয় না। একইভাবে, কিডনির সমস্যা থাকলে খেজুর খাওয়া এড়ানো উচিত।
তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সেরা খেজুর। আপনি যদি ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভোগেন এবং রোজা রাখেন তাহলে অবশ্যই খেজুরকে ডায়েটে রাখুন। এটি রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে করে। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী খেজুর।
খেজুর শরীরে প্রোটিনের ব্যবহারকে সক্রিয় করে তোলে এবং বিপাকক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। এর পাশাপাশি যাঁরা হাইপারটেনশনের রোগী তাঁরাও খেজুর খেতে পারেন। তবে সব খাবার খাওয়ারই নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে। সীমিত পরিমাণে খাবার খেলে তা শরীরে সেভাবে কোনও ক্ষতি করে না।
রক্তাল্পতায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা আয়রন সমৃদ্ধ খেজুর খেতে পারেন। এতে উপকৃত হবে। গর্ভবতী মহিলা এবং আয়রনের ঘাটতিযুক্ত ব্যক্তিরা খেজুর শরীরে আয়রনের চাহিদা পূরণ করতে পারেন। কারণ খেজুর শরীরে লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে।