ভারতের ইনিংস শুরু হতেই যেন ঝড়ের মতো প্রবেশ তাঁর। গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উঠতে পারলেন না ওপেনার লোকেশ রাহুল। ছিটকে গেল তাঁর উইকেট। সবার নজর তখন বিপক্ষের ঝকঝকে তরুণ পেসারের দিকে। নাম নাসিম শাহ। ভারতের বিরুদ্ধে টি-২০তে যাঁর স্বপ্নের অভিষেক। (ছবি:টুইটার)
নাসিমের বয়স এখন ১৯ বছর। যে বয়সে অধিকাংশ ছেলেমেয়ে স্কুলজীবন শেষ করে কলেজের দিকে পা বাড়ায়। বন্ধুবান্ধব, হইহুল্লোড়ে জীবন কাটানোর সময়। সেই বয়সে দেশের ভার কাঁধে তুলে নিয়েছেন নাসিম।(ছবি:টুইটার)
ক্রিকেট তাঁর ভালোবাসা। বয়স অল্প হলেও নজিরের ছড়াছড়ি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে স্বজন হারানোর কষ্টে ডুবেছিলেন নাসিম।(ছবি:টুইটার)
২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তান টিমে ডাক পান নাসিম শাহ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে খবর আসে, নাসিমের মায়ের মৃত্যু হয়েছে। টিনএজার সতীর্থটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা ছিল না পাকিস্তান টিমের সদস্যদের। (ছবি:টুইটার)
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তরফে নাসিমের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। তাতে রাজি হননি নাসিম। মায়ের চেষ্টায় এত দূরে পৌঁছেছেন। অথচ সেই তিনিই জাতীয় দলে ছেলের অভিষেক দেখে যেতে পারলেন না। মায়ের ইচ্ছের মর্যাদা দিয়ে দেশে না ফেরার সিদ্ধান্ত নেন নাসিম। শেষবেলায় আম্মির মুখটুকুও দেখতে পাননি। পার্থে অভিষেক টেস্টে নাসিম দুটি উইকেট নেওয়ার পর তাঁর মায়ের মৃত্যুর কথা প্রকাশ্যে আসে। অতটুকু ছেলের মনের জোর ও দায়িত্বজ্ঞান অবাক করে দেয় ক্রিকেটপ্রেমীদের।(ছবি:টুইটার)
আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের পাঁচ উইকেট নেওয়ার নজির গড়েন সেবছরই। ২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে করাচি টেস্টে ৪টি মেডেন ওভার-সহ ৩১ রানে ৫টি উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন। নাসিমের বয়স তখন ১৬ বছর ৩০৬ দিন। সাংবাদিক বৈঠকে মায়ের প্রসঙ্গ উঠতেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। (ছবি:টুইটার)