মাতৃত্ব নিঃসন্দেহে একটি জীবন পরিবর্তনকারী অভিজ্ঞতা। এর সঙ্গে মহিলাদের মধ্যে জড়িয়ে রয়েছে দায়িত্ব, কর্তব্য, স্নেহ, ভালবাসা। যা অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার নয়। তাই আসন্ন অতিথি ও হবু মায়ের স্বাস্থ্য হল সবচেয়ে গুরুত্বের।
সুষম খাদ্য, ভাল অভ্যাস, ও সুখী-পজিটিভ থাকা এইসময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এইসময় হবু মা ও শরীরের অন্দরে বেড়ে ওঠা ছোট্ট ভ্রুণের দেখভালের জন্য চিকিত্সক থেকে আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা জাফরন বা কেশর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
গর্ভধারণের নয় মাস মহিলারা সবসময় নানারকম সাধারণ সমস্যার সম্মুখীন হোন। দ্রুত হরমোন পরিবর্তন ও গর্ভাবস্থায় শারীরিক অস্বস্তির জন্য ক্ষণে ক্ষণে মেজাজ পরিবর্তন হয়। জাফরনে রয়েছে সেরোটোনিন উপাদান, যা আপনার শরীরের রক্ত প্রবাহকে বৃদ্ধি করে মেজাজকে নিয়ন্ত্রণ করে।
এই সময় রাতে পর্যাপ্ত ঘুমের খুব দরকার। তাই প্রতিরাতে এক গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে জাফরন মিশিয়ে পান করতে পারেন। উদ্বেগ, স্টেস ও মেজাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
গর্ভাবস্থায় হবু মায়েদের হরমোনের বিপুল পরিবর্তনের কারণে প্রায়শই ক্র্যাম্প হতে দেখা যায়। কখনও কখনও গুরুতর ও অসহনীয় হয়ে ওঠে। এর থেকে প্রতিকার পেতে জাফরন খেতে পারেন। এটি ব্যাথানাশক হিসেবে দুরন্ত কাজ করে। শরীরের পেশীগুলিতে প্রশমিত করতে সাহায্য করে।
গর্ভাবস্থায় জাঙ্ক ফুড থেকে বিরত থাকুন।এর থেকে শরীরে ক্যালোরির পরিমাণ বাড়ায়, কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় ও কার্ডিওভাসকুলারের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। এই অবস্থায় জাফরন এই সব সমস্যা থেকে রেহাই দেয়। গর্ভে ছোট্ট শিশুর হার্টের জন্য কেশর অত্যন্ত ভাল উপকরণ।
গর্ভবতীদের অ্যালার্জি ও সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে জাফরন গ্রহণ করা আবশ্য়িক। মরসুমি সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যাথা, অ্যালার্জির ধাত থাকলে প্রাকৃতিকভাবে এই ভেষজ ম্যাজিকের মতো কাজ করে।