বসন্তের আবহে বৃষ্টি মাত্র দু'দিনের স্বস্তি। আবার গরম বাড়তে শুরু করেছে। চড়া রোদে ছাতা বা টুপি ছাড়া বেরোনো মুশকিল। তার সঙ্গে মুখ হয়ে উঠেছে তেলতেলে। গরম থেকে পরিত্রাণ থেকে বারবার মুখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিচ্ছেন। এটা আদৌ ঠিক?
গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা এখনও হয়নি। কিন্তু এই ঘন ঘন ঠান্ডা জলে মুখ ধোয়ার অভ্যাস এখন থেকেই অনেকেই মধ্যে দেখা যাচ্ছে। অনেকে কাজ সেরে বাড়ি ফিরে মুখে জলের ঝাপটা দিচ্ছেন। আবার কেউ ঘুম থেকে উঠে ঠান্ডা জলে মুখ ধুচ্ছেন। এই অভ্যাস ভাল না খারাপ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীত, গ্রীষ্ম, বসন্ত, বর্ষা যে কোনও ঋতুতে ঠান্ডা জল দিয়েই মুখ ধোয়া উচিত। এতে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রভাব বজায় থাকে। গরম জল ব্যবহারের ত্বকের আর্দ্রতা হারিয়ে যায় এবং মুখ শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে ওঠে।
ঘুম থেকে উঠে চোখে, মুখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দেওয়া ভাল অভ্যাস। অনেক সময় ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ, মুখ ফুলে থাকে। ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিলে মুখের ফোলাভাব কমে যায়।
ঠান্ডা জল মুখের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এতে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুলে ত্বকে সমস্যা অনেক কমে যায়। ফুসকুড়ি, র্যাশের সমস্যা আপনি এই উপায়ে সহজেই এড়াতে পারবেন।
মুখের রক্ত সঞ্চালন বাড়লে ফ্রি র্যাডিকেলের হাত থেকেও ত্বককে রক্ষা করা যায়। এর জেরে ত্বকের ক্ষতি হয় না। উপরন্ত ত্বকের জেল্লা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া দূষণের কারণে ত্বকের ক্ষতিও এড়ানো যায় এই উপায়ে। তাই বাড়ি ফিরে মুখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দেওয়া ভাল অভ্যাস।
আপনার যদি ওপেন পোরসের সমস্যা থাকে তাহলে ঠান্ডা জল এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। ঠান্ডা হল ত্বকের ওপেন পোরসগুলো বন্ধ করে দেয়। সেখানে ব্যাকটেরিয়া জমে পারে। এতে ত্বকে ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দেয়।
সবচেয়ে ভাল হয় যদি মুখ ধোয়ার জন্য আপনি ইষদুষ্ণ জল ব্যবহার করেন। আর সব সময় হালকা ক্লিনজার ব্যবহার করে মুখ ধোয়ার চেষ্টা করুন। এতে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় থাকবে এবং মুখের যাবতীয় ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাবে।