
ভারতীয় টিমে অন্যতম মজার চরিত্র হয়ে উঠেছেন সরফরাজ খান। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে প্রথম বার ডাক পেয়েছিলেন। প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছিলেন। এরপরও ঘরের মাঠে বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলেছেন। যদিও নিউজিল্যান্ড সিরিজে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ক্লিনসুইপ হয়েছে ভারত। পারথ টেস্টে খেলানো হয় লোকেশ রাহুল, দেবদত্ত ও ধ্রুব জুরেলকে। জায়গা হয়নি সরফরাজের। তবে সুযোগ যে আরও আসবে বলাই যায়। প্র্যাক্টিস ম্যাচে সরফরাজ সুযোগ পেলেও ব্যাটিংয়ে কাজে লাগাতে ব্যর্থ। তবে রোহিতের বকুনি খাওয়া থেকে বাঁচলেন না। তেমনই নানা মজার মুহূর্তও তৈরি হল।
অ্যাডিলেডে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট দিন-রাতের। গোলাপি বলে প্র্যাক্টিস সারতেই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী একাদশের বিরুদ্ধে খেলেছে ভারত। দু-দিনের ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। বৃষ্টিতে প্রথম দিন ভেস্তে যায়। দ্বিতীয় দিনও বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ওভার কমে ৪৬ ওভারের ম্যাচ দাঁড়ায়। টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল ভারত। প্রতিপক্ষ ইনিংসের মাঝেই মাঠ ছাড়েন ঋষভ পন্থ। ধ্রুব জুরেল ব্যাক আপ থাকলেও সরফরাজ গ্লাভস হাতে দায়িত্ব নেন। সে সময় স্লিপে রোহিত। গ্লাভস থেকে বল ফসকাতেই মজা করে সরফরাজের পিঠে মারেন রোহিত। আর রোহিত মাঠ ছাড়তেই যেন ‘ডানা গজায়’ সরফরাজের।
ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিষেক সিরিজে হেলমেট ছাড়াই শর্টলেগে ফিল্ডিং করার জন্য় প্রস্তুত ছিলেন সরফরাজ। সে সময় রোহিত বকুনি দিয়ে বলেছিলেন, বেশি হিরোগিরির প্রয়োজন নেই। সরফরাজের বাবার সঙ্গে একটা সময় ক্রিকেট খেলেছেন। ফলে রোহিতের সঙ্গে সরফরাজের সম্পর্কটা গভীর। বকার অধিকার তো রয়েইছে। প্র্যাক্টিস ম্যাচে রোহিতও ফিল্ডিংয়ের সময় মাঠ ছাড়েন। সে সময় ক্যাপ্টেন্সি করছিলেন রাহুল। যদিও তাঁর চেয়ে বেশি সক্রিয় কিপার সরফরাজই।
স্টাম্প মাইকে নানা মজার কথাও উঠে আসে। প্রতিপক্ষ ব্যাটার জ্যাক ক্লেটন একটি বল ডিফেন্স করেন। সেটি ক্রিজেই বাউন্স হওয়ায় ফের ব্যাট দিয়ে এগিয়ে দেন। বলে কেন দু-বার মারলেন! আউটের আবেদন করেন সরফরাজ। আম্পায়ারের সামনে বারবার একই কথা বলতে থাকেন। কমেন্ট্রি বক্সেও হাসির রোল ওঠে। এখানেই শেষ নয়। ব্যাটিংয়ের সময় ম্যাচ জয়ের পর রোহিত ইশারা করেন, ব্যাটিং চালিয়ে যেতে। তখনও প্রায় তিন ওভার বাকি। সরফরাজকে এই সময়টা ক্রিজে কাটানোর ইশারা করেন। পরের ডেলিভারিতেই লেগসাইডের বলে কট বিহাইন্ড সরফরাজ।
ডাগআউটে ক্যামেরা ধরে রোহিতকে। মুখ ঢেকে হাসছেন। ধারাভাষ্যকাররা বলতে থাকেন, রোহিত কি হাসছেন নাকি কাঁদছেন! বোধ হয় হাসছেনই। সরফরাজকে নিয়ে এমন নানা মজার মুহূর্তই ধরা পড়ল।