
অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিরাট কোহলি কী? একদিকে ক্রিকেটের শুভেচ্ছাদূত। আবার ‘পণ্য’ও। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের কথাই ধরা যাক। গত সফর নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। কোভিড পরিস্থিতিতে ভারতীয় দল যাবে কি না, এই নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। দেওলিয়া হতে বসেছিল অজি ক্রিকেট বোর্ড। সেই সময় পাশে দাঁড়িয়েছিল ভারতীয় বোর্ডই। সিরিজ নিয়ে জোর চর্চা হয়েছিল। বিরাট কোহলি একটি ম্যাচ খেলেছিলেন। সিরিজ হয়েছিল। অজি ক্রিকেট বোর্ড দেওলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিল। আর অজি মিডিয়ার কাছে?
বিরাট কোহলি ব্র্যান্ড। এই ব্র্যান্ড দিয়ে ব্য়বসা করা যায়। বিরাট প্র্যাক্টিসে কী করছেন, ম্যাচে কী করছেন, সমস্ত কিছু দিয়েই। কিন্তু রাজা থেকে জোকার বানাতেও সময় লাগে না! মেলবোর্ন টেস্টের প্রথম দিন অজি তরুণ স্যাম কন্টাসের সঙ্গে একটা ধাক্কার ঘটনা হয়েছিল। যার ফলে দিন শেষে ম্যাচ রেফারি শাস্তিও দিয়েছেন কোহলিকে। ম্যাচ ফি-র ২০ শতাংশ এবং ১ ডিমেরিট পয়েন্ট। ম্যাচ রেফারি যেমন নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন, তেমনই স্যাম কন্টাসও পরিণত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন সাংবাদিক সম্মেলনে। এই ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জানান, অনিচ্ছাকৃত ভাবেই এমনটা হয়েছে। কিন্তু অজি মিডিয়ার ‘ট্রায়াল’ বাকি ছিল।
সিরিজ শুরুর আগে প্রোমো থেকে, সিরিজের উত্তাপ বাড়াতে ব্র্যান্ড বিরাট কোহলিকেই প্রোজেক্ট করেছিল অজি মিডিয়া। ‘হোলি কোহলি’, ‘কোহলিউড’, কিং। আর একটা ঘটনার পরই তাঁকে ক্লাউন বানিয়ে দেওয়া হল? আরও অনেক অপমানজনক হেডলাইন। নেগেটিভ হলেও ‘পাবলিসিটি’ তো! ব্র্যান্ড বিরাটকে ব্যবহার করা হল এ ভাবেই। ক্রিকেট প্রেমীরা অবশ্য সেই ঘটনা মনে রাখেননি। তাঁরা ক্রিকেট দিয়েই বিচার করতে ভালোবাসেন। তার মানে কি রাজকীয় সংবর্ধনা পেয়েছেন?
মেলবোর্নের দ্বিতীয় দিন দু-রকম চিত্র দেখা গিয়েছে। দিনের শুরুর দিকে বিরাটকে গ্যালারি থেকে বিদ্রুপ করা হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই চিত্রটা পাল্টে গিয়েছে। আর ব্যাটিংয়ের সময়? বিরাট কোহলির ব্যাট থেকে দুর্দান্ত একটা কভার ড্রাইভে গ্যালারিতে বিরাট গর্জন। অফস্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি ছেড়ে দিতেই স্বস্তি। অনড্রাইভে বাউন্ডারি মারতেই ফের গর্জন।
ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে বিরাট রাজার আসন কিছুটা হলেও ফিরে পেয়েছেন। শুধু মিডিয়ার জবাবটা তোলা রইল। যশস্বীর রান আউটে যেন মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটেছিল। নয়তো ৮৫টি ডেলিভারি সামলানো বিরাট কোহলি অফস্টাম্পের বাইরে আর একটা বল ছাড়তে পারতেন না?