
ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের এই লাইন যেন রিচা ঘোষের ক্ষেত্রেও বলা যায়। আরসিবি হারলেও রিচা ঘোষ নায়ক। উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগে আরও একটা রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। যার রেজাল্ট বেরলো শেষ বলে। আর হার-জিতের ব্যবধান! মাত্র ১ রান। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবলের শীর্ষে উঠল দিল্লি ক্যাপিটালস। পাশাপাশি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে প্লে-অফও নিশ্চিত করল দিল্লি। যদিও স্কোরলাইন দিয়ে ম্যাচের উন্মাদনা মাপা যাবে না। বিস্তারিত জেনে নিন TV9Bangla Sports-এর এই প্রতিবেদনে।
জেমাইমা রডরগিজ এ মরসুমে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি করেন। মাত্র ২৬ বলে হাফসেঞ্চুরি দিল্লির এই ব্যাটারের। ৩৬ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন। অ্যালিস ক্যাপসি ৩২ বলে ৪৮ করেন। মূলত জেমাইমা-ক্যাপসি জুটির বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮১ স্কোরে পৌঁছয় দিল্লি ক্যাপিটালস। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের সফল বোলার শ্রেয়াঙ্কা পাটিল। ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন শ্রেয়াঙ্কা। উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগে তাঁর সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।
আগের দিন মুম্বইয়ের অনবদ্য জয় দেখা গিয়েছে। বিশাল রান তাড়া করে জিতেছে হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন মুম্বই। এমনই একটা রুদ্ধশ্বাস জয়ের সামনে ছিল আরসিবিও। রান তাড়ায় শুরুতেই অবশ্য অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানার উইকেট হারায় তারা। সোফি মলিনিউ, এলিস পেরি দলকে ক্রমশ ভালো জায়গায় পৌঁছে দেন। এরপর রিচার দাপট। বিধ্বংসী ইনিংসে দলকে জয়ের দরজায় পৌঁছে দেন বাংলার এই কিপার ব্যাটার। যদিও শেষ রক্ষা হল না।
শেষ ওভারে ১৭ রান প্রয়োজন ছিল আরসিবির। প্রথম বলেই ছয় মারেন রিচা ঘোষ। দ্বিতীয়টি ডট বল। পরের বলে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে দিশা কাসাত রান আউট। স্ট্রাইকে থাকেন রিচাই। চতুর্থ বলে ২ রান নিয়ে পরের বলে আবারও ছয় রিচার। জয় আর আরসিবির মাঝে রিচা ঘোষ, ১টি ডেলিভারি এবং ২ রান। যদিও দূরত্বটা ঘুঁচল না। উল্টে ভুল বোঝাবুঝিতে রান হলেন রিচা। মাত্র ১ রানে জয় দিল্লির। রিচা ঘোষ ২৯ বলে ৫১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তবে দলকে জেতাতে না পেরে ক্রিজেই বসে পড়েন। জাতীয় দলের সতীর্থ জেমাইমারা রিচার সামনে বসে। ক্রিকেটও কতটা সুন্দর স্পোর্টস, এই মুহূর্তটাই প্রমাণ করে দেয়।