
বাংলা ক্রিকেট এবং উইকেট কিপার। এই সম্পর্ক দীর্ঘ সময়ের। বিশ্ব ক্রিকেটে সেরা কিপারদের তালিকায় পড়েন ঋদ্ধিমান সাহা। দীর্ঘ সময় ভারতীয় দলের ভরসা। জাতীয় দলের হয়ে অবাক করা একঝাঁক ক্যাচ নিয়েছেন। তাঁর কিপিং তরুণ প্রজন্মের কাছে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। জাতীয় দলে এখন আর সুযোগ না পেলেও ঘরোয়া ক্রিকেট এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে এখনও তাক লাগিয়ে দেন ঋদ্ধিমান সাহা। তেমনই মেয়েদের ক্রিকেটে একের পর এক কারনামা বাংলার কিপার রিচা ঘোষের। বিস্তারিত জেনে নিন TV9Bangla Sports-এর এই প্রতিবেদনে।
ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অন্যতম ভরসা রিচা ঘোষ। তাঁকে মূলত টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট হিসেবে ব্যবহার করা হত। তার কারণ পাওয়ার হিটিং। ক্যামিও ইনিংস খেলার জন্যই বেশি পরিচিত ছিলেন। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া সিরিজ খেলেছে। ওয়ান ডে-তে রিচাকে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামানো হয়েছিল। ৯৬ রানের একটা ইনিংসে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, সব ফরম্যাটেই ছাপ ফেলতে পারেন। তেমনই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেকেই হাফসেঞ্চুরি রিচার।
এ বারের উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগে আরসিবির প্রথম ম্যাচে জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন রিচা। ব্যাট হাতে বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন। জাতীয় দল হোক বা ঘরোয়া ক্রিকেট, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। তাঁর কিপিং নিয়ে বরাবরই প্রশংসা হত। চোখ ধাঁধানো কিছু ক্যাচ রয়েছে তাঁর। উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগে এ মরসুমে প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ভূমিকা নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে আলোচনায় তাঁর স্টাম্পিং।
পেসারদের বিরুদ্ধে সামনে কিপ করতেও পিছপা হন না রিচা। রেনুকা সিং ঠাকুরের বোলিংয়ে সামনে কিপ করছিলেন। ফলে ব্যাটারের পক্ষে স্টেপ আউট করা কঠিন। এ বারই নিলামে ফোয়েবে লিচফিল্ডকে নিয়েছে গুজরাট জায়ান্ট। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত। তবে রিচার বুদ্ধিমত্তার কাছে কুপোকাত লিচফিল্ড। রেনুকার বোলিংয়ে ফরোয়ার্ড ড্রাইভ করতে গিয়েছিলেন। বলের লাইন মিস করেন। পিছনের পা দাগেই ছিল। ক্রিজে ফেরার সময় ব্যালান্স হারান। সেটা নজরে রেখেছিলেন রিচা। মুহূর্তের মধ্যেই বেল উড়িয়ে দেন রিচা।
তৃতীয় আম্পায়ারকে সিদ্ধান্ত নিতে কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে পড়তে হয়। বেশ কয়েক বার, বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে দেখে তারপর আউটের সিদ্ধান্ত দেন। জায়ান্ট স্ক্রিনে O U T ভেসে উঠতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে আরসিবি গ্যালারি। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও আলোচনায় রিচার এই স্টাম্পিং।