বাংলার দৃষ্টিহীন ক্রিকেটের চালচিত্র

দৃষ্টিহীন ক্রিকেটের জাতীয় দল জিতেছে চারটি বিশ্বকাপ। টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ান-ডে মিলিয়ে মোট ৪টি ক্রিকেট বিশ্বকাপেই ভারতীয় দল হারিয়েছে পাকিস্তানের দৃষ্টিহীন ক্রিকেট দলকে। তবু বিসিসিআইয়ের এককালীন অর্থ সাহায্য ছাড়া মেলেনি কোনও রকম সহায়তাই। আণ্ডার আর্ম বলের শব্দ অনুসরণ করে শব্দভেদী বানের মতো ব্যাট চালান ওরা। অপরপ্রান্তে ধাতব উইকেটের শব্দ শুনে রান নেন।

  • নন্দন পাল
  • Published On - 16:05 PM, 8 Apr 2021
বাংলার দৃষ্টিহীন ক্রিকেটের চালচিত্র

দৃষ্টিহীন ক্রিকেটের বাংলা দলের খেলোয়াড়রা এখনও টুর্নামেন্ট খেলতে যান ট্রেনের দ্বিতীয় শ্রেণীর কামরায়। বি ওয়ান, বি টু আর বি থ্রি এই তিন ধরনের দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন খেলোয়াড়রা থাকেন দৃষ্টিহীন ক্রিকেটে। বি ওয়ান বিভাগে থাকেন সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন খেলোয়াড়রা। বি টু-তে থাকেন যে সমস্ত খেলোয়াড়রা তাঁদের দৃষ্টি ৬ মিটার অবধি যায়। আর বি থ্রি বিভাগের খেলোয়াড়রা ৮ মিটার অবধি ক্ষীণ দৃষ্টিসম্পন্ন। শুধুমাত্র শব্দ শুনে আর সহ-খেলোয়াড়দের কণ্ঠস্বর অনুসরণ করে খেলতে হয় মোট ক্রিকেট। তাই বল গড়ালেও যাতে শব্দ হয় সে রকম বিশেষ বল ব্যবহৃত হয় এই খেলায়।

দৃষ্টিহীন ক্রিকেটের জাতীয় দল জিতেছে চারটি বিশ্বকাপ। টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ান-ডে মিলিয়ে এই ৪টি ক্রিকেট বিশ্বকাপেই ভারতীয় দল হারিয়েছে পাকিস্তানের দৃষ্টিহীন ক্রিকেট দলকে। তবু বিসিসিআইয়ের এককালীন অর্থ সাহায্য ছাড়া মেলেনি কোনও রকম সহায়তাই। ভারতীয় দল একদিন আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং জামাইকার সঙ্গে। সাফল্য এসেছে তবু বদলায়নি মূল ধারার ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার একচোখামি। দৃষ্টিহীন ক্রিকেটে বরাদ্দ হয়নি কোনও স্পনসরশিপ। আণ্ডার আর্ম বলের শব্দ অনুসরণ করে শব্দভেদী বানের মতো ব্যাট চালান ওরা। অপরপ্রান্তে ধাতব উইকেটের শব্দ শুনে রান নেন। বল বাউণ্ডারির বাইরে গেলেই আনন্দ। আর উইকেটে লাগার আওয়াজ মানেই আউট। দারুণ বর্ণময় এই ক্রিকেট।