Mamata Banerjee: রঙের গন্ধে কাশি, ১০১ জ্বর, মমতা মঞ্চে উঠতেই যা হল…
Mamata Banerjee-Fever: মমতা বলেছেন, "আমি মা-বোনেদের কোনও টাকা বন্ধ হতে দেব না। আমার জন্ম হয়েছে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে, আমার মৃত্যুও হবে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। আমার নাম আন্দোলন আমার নাম সংগ্রাম। বাংলাকে অনেক এগিয়ে দিয়েছি, আরও এগোতে হবে।"

হাওড়া: গায়ে ১০১ জ্বর। তবু পরিচিত ভঙ্গিতেই মঞ্চে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, খুব বেশি কথা আজ বলতে পারবেন না তিনি। দিন কয়েক আগেই একটানা ৪৮ ঘণ্টা রেড রোডের ধরনা মঞ্চে থাকতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তারপর থেকেই অসুস্থতা বেড়েছে তাঁর। সেই অবস্থাতেই বুধবার হাওড়ার এক সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন তিনি। শুরুতেই অসুস্থতার কথা বললেও বক্তব্য শুরু করার পরই চেনা ছন্দে ফিরতে দেখা গেল মমতাকে। উঠে এল আন্দোলনের কথাও। অসুস্থতা যে তাঁকে কোনওভাবেই কাবু করতে পারে না, সে কথাও জানালেন মমতা।
এদিন হাওড়ায় সরকারি পরিষেবা প্রদান ও একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠেই মমতা বলেন, “আমি আজ বেশি কথা বলব না। আমার কাশিটা খুব বেড়েছে। ৪৮ ঘণ্টা ধরনার সময় রঙের যে বিষাক্ত গন্ধ সেটা গলায় ঢুকেছে। ফলে কাশিটা বেশি হচ্ছে। কিন্তু আমি কোনওদিন কোনও অনুষ্ঠান বাতিল করি না। তাই কম কথা বলছি। এতটাই ঠাণ্ডা লেগেছে যে আমার গায়ে ১০১ জ্বর। আশা করি একদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাব।”
এদিন মোট ২৫২ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। হাওড়ার উন্নয়নে রাজ্য সরকার কী কী করেছে, সেই হিসেবও তুলে ধরেন তিনি। ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মমতা বলেন, “বাংলা মাথা নত করে না। আমরা ১০০ দিনের কাজে এক নম্বর। আমাদের টাকা বন্ধ করে দেওয়া হল। যখন প্রাপ্য টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয় তখন মা-বোনেরা যেভাবে সংসার চালায়, আমিও তেমন ভাবেই সরকার চালাই। আমি মা-বোনেদের কোনও টাকা বন্ধ হতে দেব না। আমার জন্ম হয়েছে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে, আমার মৃত্যুও হবে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।” তিনি আরও বলেন, “আমার নাম আন্দোলন আমার নাম সংগ্রাম। বাংলাকে অনেক এগিয়ে দিয়েছি, আরও এগোতে হবে।”
প্রায় ৩০ মিনিট বক্তব্য রাখার পর মমতা হেসে বলেন, “আপনাদের কাছে এসে আমার টেম্পারেচার কমে গিয়েছে, আমি ভাল হয়ে গিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “আপনারা চিন্তা করবেন না। এইসব রোগ-ব্যাথা আমাকে কখনও কাবু করতে পারেনি। আর পারবেও না। আমি লাঠি-গুলির বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছি। বঞ্চনা-অপমান সহ্য করেছি। আমি যেদিন থাকব না, সে দিনও আমার নামের পাশে আন্দোলনের কথা লেখা থাকবে।”
