জলপাইগুড়ি: রাত্রিবেলা সবে মাত্র খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘুমোতে গিয়েছেন। লাইট অফ করে শুয়েও পড়েছেন। তখনই আচমকা কানে এল শো-শো শব্দ। আতঙ্কে উঠে পড়েন শিব শঙ্কর আগারওয়াল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তারপর ঘরের ভিতর খোঁজাখুঁজি করতেই চমকে ওঠেন তাঁরা। মঙ্গলবার রাত তখন ১০টা। খাওয়া-দাওয়া খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুমানোর জন্য ঘরে যাচ্ছিলেন আগারওয়াল পরিবার। আচমকা কানে ভেসে আসে শব্দ। ঘরের ভিতরে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এরপর ছুটে যান স্টিলের আলমারির কাছে। যেখানে গুছিয়ে রাখা ছিল সমস্ত জামা কাপড়। ভালো করে কান পাততেই বুঝতে পারেন সেই কাপড়ের ভেতর থেকে ভেসে আসছে শব্দটি।
কাপড় সরাতেই চোখ কপালে উঠে যায় বাড়ির মালিকের। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন সকলে। কাপড় সরিয়ে যা দেখেন তা খালি চোখে তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। দেখতে পান বিশাল আকার কিং কোবরা। স্টিলের আলমারির ভিতরে কাপড়ের মধ্যে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে রয়েছে। এই দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আগারওয়াল পরিবারের মধ্যে। খবর দেওয়া হয় বনকর্মীদের। কিন্তু বন কর্মীরা পৌঁছতে দেরি হতে দেখে, খবর যায় সর্পপ্রেমী সৈয়দ নঈম এর কাছে। পৌঁছন তিনি।
এরপর স্টিলের আলমারির ভিতরে লুকিয়ে থাকা সেই বিশাল আকারের কিং কোবরা সাপকে আধ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে উদ্ধার করেন। সাপটি প্রায় ১২ ফুট লিম্বা ছিল বলে জানিয়েছেন সর্প প্রেমী। এরপর সাপ টিকে খাঁচাবন্দি করা হয়। নিয়ে যাওয়া হয় চাপড়া মারি জঙ্গলে। সেখানেই সুস্থ অবস্থায় সাপ টিকে জঙ্গলে পুনরায় ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপ উদ্ধারের পর আতঙ্ক মুক্ত হয় শিব শঙ্কর আগরওয়ালের পরিবার।