Murshidabad: অজানা জ্বরে আক্রান্ত ১৫০, মেডিক্যাল কলেজে মেঝেতেও শুয়ে শিশুরা!

Murshidabad Medical College: মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে খবর, আচমকা একসঙ্গে এত শিশু আক্রান্ত হতে পারে এমন সম্ভাবনার কোনও ইঙ্গিত ছিল না। হঠাত্‍ করেই শতাধিক শিশুর এ হেন জ্বর, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট-সহ অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হওয়ায় কার্যত ম্যারাথন প্রস্তুতির পথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

Murshidabad: অজানা জ্বরে আক্রান্ত ১৫০, মেডিক্যাল কলেজে মেঝেতেও শুয়ে শিশুরা!
মু্র্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ফাইল ছবি

মুর্শিদাবাদ: অজানা জ্বরের (Mystery Fever) বিপদ ক্রমবর্ধমান। জেলায় জেলায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যেই অজানা জ্বরে (Mystery Fever) মৃত্যু হয়েছে ৪ শিশুর। কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা। এর মধ্যেই ফের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে অজানা জ্বরে আক্রান্ত ১৫০ জন শিশু। তাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা গুরুতর। কিন্তু, হাসপাতালে  শয্যা-সঙ্কট। মিলছে না বেড। মেঝেতেই শুয়ে শিশুর দল। প্রশ্ন উঠছে, যেখানে করোনা মোকাবিলা করতে রাজ্যের সকল হাসপাতালগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য স্বাস্থ্য় দফতর, সেখানে কী করে সরকারি হাসপাতালের এমন দূর্বিষহ ছবি উঠে আসছে? তাহলে কি পূর্ব প্রস্তুতি নেয়নি হাসপাতাল?

মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে খবর, আচমকা একসঙ্গে এত শিশু আক্রান্ত (Mystery Fever) হতে পারে এমন সম্ভাবনার কোনও ইঙ্গিত ছিল না। হঠাত্‍ করেই শতাধিক শিশুর এ হেন জ্বর, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট-সহ অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হওয়ায় কার্যত ম্যারাথন প্রস্তুতির পথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই ৯৪ জন আক্রান্ত শিশুর জন্য বেডের ব্য়বস্থা করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মেডিক্যাল কলেজের উচ্চপদস্থ সমস্ত আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করা হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের কীভাবে চিকিত্‍সা পরিষেবা দেওয়া যায়, প্রয়োজনে অস্থায়ী শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে কি না সে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, শিশুদের লালারস-সহ অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কেবল মুর্শিদাবাদ নয়, অজানা জ্বরে ইতিমধ্যেই আক্রান্ত দক্ষিণবঙ্গের শহর ও শহরতলির একাধিক শিশু। কেন এই সংক্রমণ তা বিশেষভাবে ভাবাচ্ছে স্বাস্থ্যকর্তাদের। গত কয়েকদিনে হুঁশ না ফিরলেও অবশেষে তৈরি হয়েছে কমিটি। আজ স্বাস্থ্য ভবনে দিনভর দফায় দফায় বৈঠক হবে এই বিষয়ে। অজানা জ্বরের পাশাপাশি ডেঙ্গি, ডায়ারিয়া, ম্যালেরিয়া নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় সবকটি মেডিক্যাল কলেজের এম‌এসভিপি, অধ্যক্ষদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম।

এরপর দুপুর দেড়টায় জলপাইগুড়ির ঘটনার প্রেক্ষিতে গঠিত আট সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী, স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্য। সেই বৈঠকের সূত্র ধরে বিকেল ২ টেয় সব জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, ডেপুটি সিএম‌ওএইচ টু, এমএসভিপি, জেলা হাসপাতালের সুপার, নিকু-পিকু-আইসিইউ ইনচার্জ এবং প্রতিটি হাসপাতালের একজন শিশুরোগ চিকিৎসকের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ কমিটির উপস্থিতিতে বৈঠক করবেন স্বাস্থ্য সচিব।

সূত্রের খবর, যে ২২ টি নমুনা স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনে পাঠানো হয়েছিল, সেই পরীক্ষার রিপোর্ট বুধবারই আসার কথা। স্বাস্থ্যকর্তাদের একাংশের অনুমান, আরএসভি (Respiratory Syncytial Virus) ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থাকতে পারে। পাশাপাশি, যেহেতু, এই সংক্রমণে ডেঙ্গু, কোভিড বা ডায়ারিয়ার মতো রোগের জীবাণুই পাওয়া যায়নি, তাহলে কোনও বায়ুবাহিত ভাইরাস কি এই সংক্রমণের কারণ? সংস্পর্শে না এলে বা বায়ুবাহিত না হলে এইভাবে এত দ্রুত গতিতে সংক্রমণ ছড়ানো সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য অধিকর্তাদের একাংশ।

তবে, প্রশ্ন উঠছে, যেখানে গত দুই সপ্তাহ ধরে টানা জ্বরের প্রকোপ বেড়েই চলেছিল, তখন কেন সংক্রমণের খবর রাজ্য স্বাস্থ্যভবনকে জানাননি, উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা? যেখানে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের সর্বাধিক প্রভাব পড়তে পারে শিশুদের উপর, সেখানে কী করে এই সংক্রমণকে প্রাথমিকভাবে ইনফ্লুয়েঞজা বলে চিকিত্‍সা চালানো হচ্ছিল? কী করেই বা শিশু-মৃত্যুর পরেও জলপাইগুড়ির সিএমওএইচ জ্যোতিষচন্দ্র দাস জানিয়ে দেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক। বিশেষ জনস্বাস্থ্য আধিকারিক সুশান্ত রায় কেন কোনও যথাযথ পদক্ষেপ করলেন না,  প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট মহলের।

উত্তরবঙ্গের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ আধিকারিক (Special Public Health Officer) চিকিত্‍সক সুশান্ত রায় দাবি করেছেন, জ্বর নিয়ে বিশেষ চিন্তার কিছু নেই। তিনি জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে ৩৯ জনের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। সেই শিশুদের কারও ক্ষেত্রেই জাপানি এনকেফালাইটিসের জীবাণু পাওয়া যায়নি। একজনের দেহে ডেঙ্গু সংক্রমণ ধরা পড়েছে। উত্তরবঙ্গের চিকিৎসকদের একাংশের অভিযোগ, সঠিকভাবে সেই তথ্য জানানো হয়নি স্বাস্থ্য ভবনকে। তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে।

সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন উঠতে এত দিন পর কমিটি গঠন করছে স্বাস্থ্য দফতর। দেখা যাচ্ছে তৎপরতা। নবান্ন সূত্রে খবর, এই ইস্যুতে বুধবার মুখ্য সচিব বৈঠক ডেকেছেন জরুরি ভিত্তিতে। সব জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং জেলাশাসকের সঙ্গে কথা হবে সেই বৈঠকে। ১০-১২ দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করে সঠিক কারণ জানা যায়নি। কেন জ্বরের কারণ জানতে এত বেশি সময় লাগছে? সে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক বিশেষজ্ঞ।

বুধবার স্বাস্থ্যদফতরের তরফে তড়িঘড়ি যে আট সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়, তাতে রয়েছেন, একাধিক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, ভাইরোলজিস্ট। তাঁরাই অজানা জ্বরের কারণ খতিয়ে দেখবেন। আট সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন ড. দিলীপ পাল, ড. মৌসুমী নন্দী, ড. বিভূতি সাহা, ড. সৌমিত্র ঘোষ, ড. মিহির সরকার, ড. ভাস্বতী মুখোপাধ্যায়, ড. সুগত দাশগুপ্ত, ড. দীপ্তকান্তি মুখোপধ্যায়। জানা যাচ্ছে, সাধারণ জ্বর নয়, প্লেটলেট ক্রমশ কমতে শুরু করছে শিশুদের। সেই কারণেই ক্রমশ নেতিয়ে পছে তারা। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের কথা মাথায় রেখে রাজ্যে শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য পরিকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর। অথচ অজানা জ্বরেই বেআব্রু হয়ে গেল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন: Jalpaiguri: ফের অজানা জ্বরে মৃত ৮ মাসের শিশু, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক’ বলছে প্রশাসন!

আরও পড়ুন: Jalpaiguri: জাপানি এনকেফালাইটিসের সংক্রমণ নয়, অজানা জ্বর নিয়ে মুখ খুললেন জনস্বাস্থ্য আধিকারিক

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla