বারাসত: দত্তপুকুর থানার অন্তর্গত নীলগঞ্জে বিস্ফোরণের পরই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। জায়গায় জায়গায় অভিযান চলছে। বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে বেআইনি বাজি। বিভিন্ন জায়গা থেকে বাজেয়াপ্ত করা বাজি এনে জমানো হচ্ছে বারাসতে ডিএসপি ট্রাফিকের অফিসের পাশে। বাজেয়াপ্ত হওয়া বাজি স্তূপাকারে জমতে শুরু করেছে সেখানে। সূত্রের খবর, প্রায় ১৪ হাজার কেজিরও বেশি বাজি এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে। আর এই বিপুল পরিমাণ বাজি জমে জমে কার্যত এক ঢিবি তৈরি হয়েছে ডিএসপি অফিসের পাশে।
বাজেয়াপ্ত হওয়া বাজি
জমছে বেআইনি বাজির স্তূপ
বেআইনি বাজির বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান এখনও চলছে বিভিন্ন জায়গায়। আরও ধরপাকড় চলছে। আরও কোথায় কোথায় বেআইনি বাজির গোডাউন রয়েছে, সেই সব খুঁজে বের করে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন পুলিশকর্মীরা। সেক্ষেত্রে এই স্তূপের বহর আরও বাড়তে পারার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এখানেই বেশ কিছু প্রশ্ন উঠে আসছে। কেন কোনও ফাঁকা জায়গায় বাজিগুলিকে না রেখে, এমন লোকালয়ের মধ্যে জমানো হচ্ছে বাজির স্তূপ? ডিএসপি ট্রাফিকের অফিসের ঠিক পাশেই। সেখানে অনেক পুলিশকর্মীরাও রয়েছেন। এই বেআইনি বাজির বিশাল স্তূপ থেকে আবার কোনও অঘটন ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায় বলে মনে করছেন একাংশের মানুষ।
বাজির স্তূপে জল ঢালছে দমকল
আশঙ্কায় রয়েছেন আশপাশের লোকেরা। ডিএসপি ট্রাফিক অফিস সংলগ্ন বাসিন্দা এক মহিলা বলছেন, ‘আমরা একটুও নিরাপদ নই। এই প্রথম নয়, এর আগেও এখানে অনেক বাজি রাখা হয়েছে। এখানে বাজি রাখা থাকলে, বাচ্চারা আসবেই। কোথাও যদি কোনও অঘটন ঘটে, প্রতিটি বাড়িতেই রান্নার গ্যাস আছে। কিছু হলে প্রতিটি বাড়িতে আগুন লেগে যাবে।’
আগে যখন অল্পবিস্তর বাজি বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর এই ডিএসপি ট্রাফিকের অফিসের পাশে তা জমানো হত, সেটি আলাদা বিষয় ছিল। কিন্তু এই বিশাল পরিমাণ বাজেয়াপ্ত বাজি কি অন্য কোথাও রাখা যেত না? এমন প্রশ্ন ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পরই অবশ্য দেখা যায় দমকলের একটি ইঞ্জিন ঢোকানো হয় ডিএসপি ট্রাফিকের অফিসের চত্বরে। বাজির স্তূপে জল ঢেলে, সেগুলিকে ভিজিয়ে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করা হয় দমকলের তরফে। যদিও এই নিয়ে পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।