Sandeshkhali: ‘ভিডিয়ো ডিলিট করুন এখনই’, জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যদের কোন ভিডিয়ো মুছে ফেলতে বললেন সন্দেশখালির নিগৃহীতারা?

Sandeshkhali: "পুলিশের ওপর থেকে তো এখানকার মানুষের ভরসাই উঠে গিয়েছে। ওরা থানায় পুলিশ জানারো চেষ্টা করেছেন, কিন্তু পুলিশ অভিযোগ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন। এখানে আজ যে মানুষগুলো এসেছেন, তাঁরা কেউ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে আসেননি। তাঁরা এতদিন ধরে যে সব সহ্য করেছেন, তা বলতে এসেছেন।"

Follow Us:
| Edited By: | Updated on: Feb 13, 2024 | 4:26 PM

সন্দেশখালি: সন্দেশখালিতে মহিলাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগের অনুসন্ধানে জাতীয় মহিলা কমিশন। টোটোয় চেপে গ্রামে ঘুরলেন মহিলা কমিশনের সদস্যরা। গ্রামের মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে এদিন কথা বলার সময়ে জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যদের একটি ভিডিয়ো ‘ডিলিট’  করতে বলেন গ্রামের মহিলারা, সেটি ডিলিটও করা হয়। কী সেই ভিডিয়ো?

মঙ্গলবারের শুরুতেই জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যরা সন্দেশখালি থানায় পৌঁছন। সেখানে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর সন্দেশখালির পাত্রপাড়ায় পৌঁছে যান।  সেখানে পুলিশের একটি ক্যাম্প তৈরি করা হয়। পাত্রপাড়া কেন এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য? কারণ সন্দেশখালিতে আন্দোলনের ভরকেন্দ্র হচ্ছে এই পাত্রপাড়া। অর্থাৎ প্রথম দিনের লাঠি হাতে নিগৃহীত গ্রামের মহিলারা এখান থেকেই পথে নেমেছিলেন। এখান থেকে শিবু হাজরা, উত্তম সর্দারদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন তাঁরা। তারপর ধীরে ধীরে তা গোটা সন্দেশখালিতে ছড়িয়ে পড়ে।

পাত্রপাড়ায় দুটি বাড়িতে যান জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যরা। কিন্তু দুটি বাড়িতে কোনও মহিলাই ছিলেন না। এর পিছনেও বড় অভিযোগ রয়েছে। গ্রামের মহিলাদের অভিযোগ, রাতে পুলিশের ধরপাকড় চলছে। তাই ভয়ে মুখ বন্ধ। কারণ মুখ খুললেই গ্রামে ঢুকছে বাইক বাহিনী। রাত ২টো-৩টেতেও গ্রামে লোক ঢুকছে। কেউ কেউ আবার নিজেদের পুলিশের পরিচয় দিচ্ছে বলেও অভিযোগ। গ্রামের মহিলাদের অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসনের কাছে এর আগেও তাঁরা একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা সুবিচার পাননি। বরং আরও অভিযোগ, পুলিশই নাকি তাঁদের শিবু হাজরা, উত্তম সর্দারদের কাছে পাঠিয়ে দিত। তাঁর এফআইআর-ই নিত না। আর যদি নিত, তাহলে তা নষ্টও করে ফেলত বলে অভিযোগ গ্রামের মহিলাদের।

এই খবরটিও পড়ুন

এদিনের শুরুর দিকে মহিলা কমিশনের সদস্যরা গ্রামের কোনও মহিলারাই দেখা পাচ্ছিলেন না। পরে গ্রামের আরও ভিতরের দিকে পৌঁছতে নির্যাতিতা মহিলাদের দেখা পান জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যরা। এক জোট হয়ে গ্রামের মহিলারা কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তখন সে সময়ে এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়র গোটা বিষয়টি মোবাইলে রেকর্ড করছিলেন। কিন্তু কথা বলার ফাঁকে সেটি দেখে ফেলেন গ্রামের মহিলারা। তখনই তাঁরা জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যদের কাছে অভিযোগ করেন, কেন সিভিক ভলান্টিয়র তাঁদের বক্তব্য মোবাইলে রেকর্ড করছে? সেটি ডিলিট করে দেওয়ার দাবি জানান। এরপর মহিলা কমিশনের সদস্যরা সেটিকে ডিলিট করার অনুরোধ জানান।

নিগৃহীতাদের সঙ্গে কথা বলার পর জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য বলেন, “আমাদের সঙ্গে ওঁদের কথা হয়েছে। সমস্তটা শুনেছি। আমরা দিল্লিতে গোটা বিষয়টি জানাব। যা যা রেকর্ড রয়েছে, যা রিপোর্ট রয়েছে, তা মন্ত্রকে জমা পড়বে।” তিনি বলেন, “পুলিশের ওপর থেকে তো এখানকার মানুষের ভরসাই উঠে গিয়েছে। ওরা থানায় পুলিশ জানারো চেষ্টা করেছেন, কিন্তু পুলিশ অভিযোগ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন। এখানে আজ যে মানুষগুলো এসেছেন, তাঁরা কেউ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে আসেননি। তাঁরা এতদিন ধরে যে সব সহ্য করেছেন, তা বলতে এসেছেন।”

সন্দেশখালির মহিলাদের প্রথম আন্দোলনের দিন থেকেই একটি অভিযোগ ভীষণ ভাবে প্রকাশ্যে এসেছে। মহিলাদের অভিযোগ ছিল, ‘রাত বিরেতে দলীয় কার্যালয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করা হত।’ এদিনে সে বিষয়ে জাতীয় মহিলা কমিশনের কাছে কেউ কোনও অভিযোগ করেছেন নাকি, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তাতে মহিলা কমিশনের এক সদস্য বলেন, “আমার বাংলায় একটু সমস্যা রয়েছে। তবে যতটুকু বুঝেছি, এই সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ কেউ করেননি।” পাশেই দাঁড়ানো আরেক প্রতিনিধি বলেন, “এখানকার মহিলারা অত্যন্ত ভয় পেয়ে রয়েছেন। তাই আমরা এখনই এই সংক্রান্ত কোনও প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি না। ওঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমাদের এ ব্যাপারে একটু সময় দিতে হবে।”