Gosaba TMC-BJP Clash : ভোটের মুখে রক্ত ঝড়ল গোসাবায়, জমিতে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে BJP কর্মীদের বেধড়ক ‘মারধর’
WB Assembly Election 2026 : বৃহস্পতিবার রাতে রাঙাবেলিয়া অঞ্চলে বিজেপি-র একটি ঘরোয়া বৈঠক চলছিল। রাজাপুর পূর্ব পাড়ার ১৫৫ নম্বর বুথের বিজেপি কর্মী রমেন মাইতির বাড়িতে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, রাত ৮টা নাগাদ উপপ্রধান মোসলেম মোল্লার নেতৃত্বে প্রায় ৪০-৫০ জনের একটি দল তাঁদের উপর চড়াও হয়। লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

দেবব্রত মণ্ডলের রিপোর্ট
গোসাবা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের উত্তপ্ত গোসাবা। বিজেপির বৈঠকে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। গতকাল গোসাবার রাঙাবেলিয়া অঞ্চলে বিজেপির একটি ঘরোয়া বৈঠক ছিল। ওই বৈঠকে ঢুকেই বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। রড-লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার না করা হলে থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।
ঠিক কী ঘটেছে?
বৃহস্পতিবার রাতে রাঙাবেলিয়া অঞ্চলে বিজেপি-র একটি ঘরোয়া বৈঠক চলছিল। রাজাপুর পূর্ব পাড়ার ১৫৫ নম্বর বুথের বিজেপি কর্মী রমেন মাইতির বাড়িতে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, রাত ৮টা নাগাদ উপপ্রধান মোসলেম মোল্লার নেতৃত্বে প্রায় ৪০-৫০ জনের একটি দল তাঁদের উপর চড়াও হয়। লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও দীপকুমার বেরা ও সুবীর মণ্ডল বেরোতে পারেননি। তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বিজেপির অভিযোগ, দীপকুমারকে টেনে-হিঁচড়ে পাশের জমিতে নিয়ে গিয়ে রড ও লাঠি দিয়ে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়। তাঁর কাঁধ, মুখ ও বুকে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, সুবীর মণ্ডলের গলা টিপে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর মুখেও নখের আঁচড়ের দাগ স্পষ্ট।
আক্রান্ত দীপকুমার বেরা বলেন, “অন্ধকারের সুযোগে উপপ্রধান মোসলেম মোল্লা,আলি মোল্লা ও রহিম গাজীরা আমাকে মারতে মারতে জমিতে নিয়ে যায়। বাকিদের চিনতে পারিনি, তবে প্রায় ৫০-৬০ জন ছিল।”
খবর পেয়েই রাত ১১টা নাগাদ হাসপাতালে পৌঁছন গোসাবার বিজেপি প্রার্থী বিকর্ণ নস্কর। আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়ে সটান চলে যান গোসাবা থানায়। সেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়। বিকর্ণ নস্কর বলেন, “তৃণমূল গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরতে চাইছে। পুলিশ বলছে এই ধরনের ঘটনায় নাকি গ্রেফতার করা যায় না! আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি,২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার না করা হলে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে গোসাবা থানা ঘেরাও করা হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
