
কিয়েভ : বারো দিনে পেরিয়ে গেল ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল রুশ সেনাবাহিনী। দুই তরফের প্রতিনিধিদের মধ্যে বেলারুশ সীমান্তে যুদ্ধ বিরতি নিয়ে বৈঠক হয়। কিন্তু তাতে কোনও সুরাহা মেলেনি। রাশিয়া-ইউক্রেনের এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে আটকে পড়েছিল বহু ভারতীয় নাগরিক। কেন্দ্রের উদ্ধারাভিযান ‘অপারেশন গঙ্গার’ অধীনে দফায় দফায় বায়ুসেনার বিশেষ বিমান সি-১৭ তে করে সেখানে আটকে থাকা পড়ুয়াদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু ইউক্রেনের শহর সুমিতে আটকে ছিলেন প্রায় ৭০০ জন পড়ুয়া। রাশিয়ার তরফে ভারতীয় নাগরিকদের দেশে ফেরার জন্য মানবিক করিডরের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছিল। সেজন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু নির্দেশ অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে চলা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে গতকালই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কিকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু তবুও সুমিতে আটকে থাকা ভারতীয় পড়ুয়াদের মানবিক করিডর দেওয়ার বিষয়ে কোনও দেশই আগ্রহ দেখায়নি। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে সেখানে আটকে থাকা ভারতীয়দের জন্য চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ইউক্রেন থেকে ভারতীয় নাগরিকদের বেরিয়ে আসার জন্য শেষ সুযোগ এটি। সেখানে বলা হয়েছে, “ইউক্রেনে আটকে থাকা নাগরিকদের উদ্ধারের জন্য ৮ মার্চ ইউক্রেনের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ১০ টা থেকে মানবিক করিডরের ঘোষণা করা হয়েছে ইউক্রেনের বিভিন্ন জায়গায়। বর্তমানে নিরাপত্তাজনিত কারণে পরবর্তী কোনও মানবিক করিডরের বিষয়ে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।” এই বিবৃতিতে এই সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে ভারতীয় নাগরিকদের। ট্রেন বা অন্য কোনও পরিবহনে করে ইউক্রেন ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সুমিতে প্রায় ৭০০ জন ভারতীয় পড়ুয়া আটকে পড়েছিল। সেখান ক্রমাগত রুশ মিসাইল হামলার কারণে আটকে পড়েন পড়ুয়ারা। আজ তাঁদের ভারতে নিয়ে আসার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী টুইট করে এই বিষয়ে জানিয়েছেন। তিনি টুইটে একটি ভিডিয়োও যোগ করেছেন। তিনি টুইটে লিখেছেন, “আমরা জানাতে আনন্দ বোধ করছি যে সুমি থেকে ভারতীয় পড়ুয়াদের বের করে আনতে আমরা সক্ষম হয়েছি।” তিনি আরও জানিয়েছেন, “তাঁরা বর্তমানে পলটাভার দিকে যাচ্ছেন। সেখান থেকে তাঁরা পশ্চিম ইউক্রেনে যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠবেন। অপারেশন গঙ্গার অধীনে বিমানগুলিকে প্রস্তুত করা হচ্ছে তাঁদের বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য।”
আরও পড়ুন : Assembly Election Results 2022 Date : পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন সমাপ্ত, ১০ মার্চেই ভাগ্য নির্ধারণ