
করাচি: নাম ড্রিম বাজার মল। কিন্তু উদ্বোধনের দিনই পাকিস্তানের করাচির এই শপিং মল পরিণত হল দুঃস্বপ্নে। একদল দুষ্কৃতী এই মলে জোর করে ঢুকে পড়ে এবং মলে ব্যাপক ভাঙচুর ও সম্পত্তির ক্ষতি করে বলে অভিযোগ। পাকিস্তানের অ্যারি নিউজ জানিয়েছে, বিদেশে বসবাসকারী এক পাকিস্তানি ব্যবসায়ী এই মলটি নির্মাণ করেছেন। উদ্বোধনের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে এর প্রচার করা হয়েছিল। গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে উদ্বোধনী দিনের জন্য বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছিল। রবিবার বিকেল ৩টেয় মলের দরজা খোলে। এরপরই, মলে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ে উত্সাহী জনতা। আর কিছুক্ষণের মধ্যে সাজানো গোছানো শপিং মল পরিণত হয় প্রায় ধ্বংসস্তূপে।
করাচি শহরের গুলিস্তান-ই-জোহর এলাকায় এই নতুন শপিং মলটি তৈরি করা হয়েছে। ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেগুলিতে দেখা যাচ্ছে, শয়ে শয়ে মানুষ লোক শপিং মলে ঢুকছেন। তারপর যেন শুরু হয় হরির লুঠ, চূড়ান্ত অরাজকতা। ভিড় সামলাতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মলের কর্মীদের মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু, এক পর্যায়ে দরজা ভেঙে মানুষ জোর করে মলে ঢুকে পড়ে। দোকানে শুরু হয় ভাঙচুর। বহু টাকার সম্পত্তি ভাংচুর করে তারা। একেবারে নতুন খোলা শপিং মলটিতে চলে দেদার লুঠ। বহু টাকার জামা-কাপড় ও অন্যান্য পণ্য চুরি যায়। উন্মত্ত জনতা হাতের কাছে যা পেয়েছে, তাই টেনে ফেলে দিয়েছে কিংবা ব্যাগে ভরে বা হাতে করে নিয়ে চলে যায়।
সবথেকে আশ্চর্যের হল, এই ভাঙচুর নিয়ে ওই দুষ্কৃতীরা অত্যন্ত গর্বিত। ঘটনার অধিকাংশ ভিডিয়ো ভাঙচুরকারীদেরই তোলা। বিশৃঙ্খল জনতা, নিজেদের লঠের ছবিই গর্ব সহকার ক্যামেরা বন্দি করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেশ কিছুক্ষণ ধরে তীব্র হট্টগোল চলা সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে আসেনি পুলিশ। প্রশাসনের থেকে অবস্থা সামাল দেওয়ার কোনও চেষ্টাই করা হয়নি। একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে তাণ্ডবের পরের দৃশ্য। তাতে দেখা গিয়েছে ঝাঁ চকচকে দোকানটি পুরো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। পুরো ভবন জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ধ্বংসস্তূপ। মেঝে জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে কাপড়-চোপড়, ভাঙা কাচ, ভাঙা অন্যান্য জিনিসের টুকরো।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র কর পাকিস্তানে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নেটদুনিয়ায় অনেকেই তাঁদের হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তাঁদের মতে, এই ভিডিয়োগুলি থেকে স্পষ্ট পাকিস্তানিদের নাগরিক নৈতিকতার অভাব রয়েছে। একজন লিখেছেন, “যে দেশে অনাচারই আদর্শ, সেখানে আর কীই বা আশা করা যায়?” আরেকজন বলেছেন, “আমার মতে, মৌলিক সাংস্কৃতিক শিক্ষার অভাব রয়েছে! কেউ আপনার জন্য ভাল করার চেষ্টা করলে, কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। পরিবর্তে তাদের লুঠ করা হল।” আরেকজন বলেছেন, “শপিং মলে লুঠ ঠেকাতে আরও ভাল পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল।”