নয়া দিল্লি: আগেই বলে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস একাই লড়বে। তারপরও, কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ, গত মাস দেড়েক ধরে বারংবার বলে গিয়েছেন, আলোচনার রাস্তা খোলা আছে। বাংলাতেও আসন ভাগাভাগি হবে। কিন্তু, রবিবারের (১০ মার্চ) পর, আর সেই জল্পনার জায়গা নেই। এদিন, পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা আসনের জন্যই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কবরে চলে গিয়েছে বাংলায় কংগ্রেস নেতাদের জোটের যাবতীয় আশা। তারপর কী বলছেন কংগ্রেস নেতারা?
স্বাভাবিকভাবেই হতাশ কংগ্রেস নেতারা। দলের সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেছেন, “কংগ্রেস সবসময়ই বলেছে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির একটা সম্মানজনক ফর্মুলা চায়। এর অর্থ পারস্পরিক আলোচনা, দেওয়া-নেওয়া, কিছু ক্ষেত্রে আপোষ করা। আমরা সবসময় বলেছি, আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনার জন্য আমাদের দরজা খোলা আছে। তবে একতরফা আসন ঘোষণা করা উচিত নয়। তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, উত্তর প্রদেশে আমরা যেভাবে সম্মিলিতভাবে আসন ঘোষণা করেছি, সেভাবেই করা উচিত ছিল। কিন্তু, তৃণমূল একতরফাভাবে পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল। জানি না তাদের উপর কী চাপ ছিল। তবে, পশ্চিমবঙ্গে আমরা এখনও ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করতে চাই। তাই দেখা যাক কী হয়।”
রবিবার, কলকাতার ব্রিগেড গ্রাউন্ডে জনগর্জন সভা থেকে পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি লোকসভা আসনের জন্যই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেসকে তো একটিও আসন ছাড়া হয়নি, উপরন্ত, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর নিজ লোকসভা কেন্দ্র, বহরমপুর আসন থেকে প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানকে। মুসলিম অধ্যুষিত বহরমপুর আসনে ইউসুফের বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা নিয়ে, প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি তথা কংগ্রেসের লোকসভা দলের নেতা, অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিলেন, আমার উপর অসন্তুষ্ট হবেন না, আমি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করছি না।” অধীর চৌধুরীর দাবি, মেরুকরণের লক্ষ্যে এবং বিজেপিকে সাহায্য করতেই ইউসুফ পাঠানকে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ প্রমাণ করে দিয়েছেন, ভারতের কোনও রাজনৈতিক দলেরই তাঁর মতো কোনও নেত্রীকে বিশ্বাস করা উচিত নয়। তিনি ভয়ে আছেন, তিনি যদি ইন্ডিয়া জোটে থাকেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী মোদী অসন্তুষ্ট হবেন।”