খবরটা কিছুতেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না সোহিনী সেনগুপ্ত। টিভিনাইন বাংলার তরফে শাঁওলি মিত্রর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছতেই গলা দিয়ে ঝরে পড়ল হাহাকার, “কী বলছেন, কিছুই তো জানতাম না…”। শাঁওলি চাননি তাঁর মৃত্যু নিয়ে অযথা হইচই হোক, তাই সৎকার না হওয়ার পর্যন্ত মৃত্যুর খবর প্রচারেও ছিল নিষেধ। রাত বাড়তে খবর জানাজানি হতেই সোহিনী হতবাক। তাঁর কথায়, “এই তো কয় দিন আগেই কথা হল। কত কিছু জিজ্ঞাসা করল আমায়। কেমন আছি, শরীর কেমন…।”
পারিবারিক সূত্রে সেই ছোটবেলা থেকেই শাঁওলি মিত্রর সঙ্গে আলাপ তাঁর। সোহিনীর কাছে তিনি শাঁওলি মাসি। আর শাঁওলি মাসির কাছে তিনি বাবুয়া। ছোটবেলায় কোলে চেপে ঘুরে বেড়ানো, গল্প আজ সব পরপর কেমন মনে পড়ে যাচ্ছে তাঁর। বলছিলেন, “আমার ছোটবেলাটা জুড়ে একটা ইম্পরট্যান্ট পার্ট ছিলেন তিনি। কত কোলে করে ঘুরে বেরিয়েছি। মাঝখানে যখন অসুস্থ হল তখনও দেখা হয়েছিল। আমায় বলল, বাবুয়া শরীরটা ভাল যাচ্ছে না।”
মা স্বাতীলেখা সেনগুপ্তর মৃত্যুর পরেও মাসির কাছ থেকে ফোন এসেছিল সোহিনীর কাছে। কষ্ট চেপে বলছিলেন, “বলেছিলাম কোভিডের ঝামেলাটা মিটে যাক তারপর তোমার কাছে আসছি। আসলে বয়স হয়েছিল তাই কোভিডের সময় বয়স্ক মানুষদের কাছে যাওয়াটা নিরাপদ নয়। কিন্তু ফোন তো করেছিল কিছুদিন আগেই। ছোটবেলার কথা, মায়ের কথা, কত কথা…”।
কথা বলার মানুষটি আর নেই। বাবার মতোই নিভৃতে তিনি চলে গিয়েছেন অন্য দুনিয়ায়। রয়ে গিয়েছে তাঁর কাজ, তাঁর সৃষ্টি আর উত্তরসূরীদের মনে গেঁথে যাওয়া কিছু টাটকা স্মৃতি।
আরও পড়ুন- Rudraprasad Sengupta On Shaoli Mitra : চোখের সামনে বড় হল, বড্ড দামি মানুষ ছিল: রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত