AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

‘শালীনতার অভাব,’ যখন-তখন মোবাইল বেজে ওঠার ঘটনায় কতটা বিরক্ত অনির্বাণ চক্রবর্তী

Anirban Chakraborti: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ার প্রবণতা কি বাড়ছে, রিলস-পোস্টের ভিড়ে কি শিল্প আর শিল্পীর উপস্থাপনায় ব্যাঘাত ঘটছে? একটু তলিয়ে ভেবে দেখার জন্য TV9 বাংলার তরফ থেকে এই প্রশ্ন রাখা হয় অনির্বাণ চক্রবর্তীর কাছে।

'শালীনতার অভাব,' যখন-তখন মোবাইল বেজে ওঠার ঘটনায় কতটা বিরক্ত অনির্বাণ চক্রবর্তী
| Updated on: Feb 12, 2024 | 5:27 PM
Share

জয়িতা চন্দ্র

প্রেক্ষাগৃহ অন্ধকার, ধীরে-ধীরে সরে যায় পর্দা। দর্শকদের মধ্যে নিস্তব্ধতা। আলো-আঁধারিতে মঞ্চে তখন গল্প বলা শুরু। অভিনেতা-অভিনেত্রী ছাড়াও মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকে তাঁদের সেরাটা উপহার দেবেন বলে প্রস্তুত। দর্শকদের টিকিটের মূল্যের বিনিময়ে বিনোদনে যেন কোনও খামতি না থাকে। না, এখানে থাকে না কোনও লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন, এখানে নেই কোনও রি-টেকের সুযোগ। তাই সবটাই জীবন্ত। বড়পর্দায় ছবি দেখতে গিয়ে যেমন শার্ট খুলে ভক্তরা নাচতে পারেন, সিটি দিতে পারেন, সেই উচ্ছ্বাস ছবির কলাকুশলীদের মনঃসংযোগে কোথাও আঘাত হানে না। অথচ, তেমনটা যদি হয় থিয়েটরের মঞ্চে? সেখানে যদি লাইভ শোয়ে একবুক আশা নিয়ে এক দুঁদে থেকে নবাগত অভিনেতারা নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন, আর তাঁকে টক্কর দেওয়ার জন্য যদি কোনও নবাগত নিজের ভয়কে জয় করে সামনে বসে থাকা সারি-সারি দর্শকের নজর কাড়তে সংলাপ বলা শুরু করেন… আর তখনই বেজে ওঠে কারও মোবাইল ফোন, তখন…?

থামিয়ে দিতে হয় সকল আয়োজন। ঠিক যেমনভাবে রবিবার (‘মহাত্মা বনাম গান্ধী’, অ্যাকাডেমি , সকাল ১০ টা। চেতনা প্রযোজনা। পরিচালনা সুজন মুখোপাধ্যায়। ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪) একবার নয়, পর পর ছ’-সাতবার থামতে হয়েছিল অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তীদের। বিষয়টা মেনে নিতে না পেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজির হন অভিনেতা। দুই লাইনে একটি পোস্ট করেন তিনি। যেখানে লেখা ছিল: ”আজ সকালে অ্যাকাডেমিতে নাটকের শো ছিল। কিছু ‘—‘ দর্শক সমস্ত অনুরোধ উপেক্ষা করে মোবাইল চালু রাখলেন। ৬/৭ বার নাটক বন্ধ রাখতে হল। ফলে যা হওয়ার তাই হল।”

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ার প্রবণতা কি বাড়ছে, রিলস-পোস্টের ভিড়ে কি শিল্প আর শিল্পীর উপস্থাপনায় ব্যাঘাত ঘটছে? একটু তলিয়ে ভেবে দেখার জন্য TV9 বাংলার তরফ থেকে এই প্রশ্ন রাখা হয় অনির্বাণ চক্রবর্তীর কাছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বললেন, ”আমি কোনও প্রজন্মকে দাগিয়ে দিতে চাই না। এই মোবাইল আসক্তি প্রসঙ্গে আমার আপত্তি রয়েছে ‘এই প্রজন্ম’ শব্দটার ব্যবহারে। এই প্রজন্ম বলতে কোন প্রজন্মকে বোঝানো হয়? ২০-র নীচে? ৩০-এর নীচে? এই সমস্যাটা কিন্তু শুধু তাঁদের মধ্যে নেই। আমার যে পোস্টের জন্য আপনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, সেখানে কিন্তু আমার বয়সের, আমার থেকে বেশি বয়সের দর্শকেরাই আসনে বেশি ছিলেন। ফলে এই অসুবিধা বা এই দায়বদ্ধতার অভাবটা কিন্তু শুধু তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই রয়েছে এমনটা নয়, বর্তমানে সব প্রজন্মের মধ্যেই রয়েছে। এদের একশ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে, প্রজন্মে নয়। এটা বলা খুব সহজ যে, ‘এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এটা করছে’, আমি বলব এই সৌজন্যের অভাব, সভ্যতার অভাব, শালীনতার অভাব, এই বিষয়গুলো যাঁরা লাইফ পারফরম্যান্সের সময় নজরে রাখতে পারেন না, সমস্যাটা তাঁদের নিয়ে।”

এখানেই থামলেন না অনির্বাণ। দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গ টেনে বললেন, ”এই বিষয়টার সঙ্গে রিলস করা, ফোনে ছবি-ভিডিয়ো পোস্ট করা প্রসঙ্গগুলোকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না কিন্তু। রিলস একটা রুচির বিষয়, আমার ভাল না লাগলে আমি করব না। তেমনই তো থিয়েটার, যাঁর ভাল লাগবে, সে আসবে, যার ভাল লাগবে না, সে আসবে না। কেউ তো জোর করে না। কিন্তু আমি যখন দর্শক হিসেবে উপস্থিত হচ্ছি, তখন আমাকে সেই দায়িত্ববোধ ও দায়বদ্ধতাটা নিয়ে আসতে হবে। ওটাকে দরজার বাইরে রেখে এলে চলবে না।”

এই অসুবিধে কি শুধু অভিনেতা-অভিনেত্রীদের? বাকিদের নয়? নতুন-নতুন শিল্পীর মনোবল ভেঙে দেওয়া নয়? আবেগঘন কণ্ঠে অনির্বাণ বললেন, ”খারাপ লাগা তো বটেই। সমস্যা তো হয়ই। শুধু অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কথাই বা বলছি কেন, যাঁরা অনেকটা আশা, ইচ্ছে নিয়ে, সময় করে, পরিশ্রমের টাকায় টিকিট কেটে থিয়েটার দেখতে আসছেন, সেই দর্শকাসনে থাকা ব্যক্তিরও তো সমস্যা হয়। প্রেক্ষাগৃহে হয়তো ১০-১৫ জন মিলে এটা ঘটাচ্ছেন, কিন্তু বাকিদের কী দোষ বলুন? তাঁরা তো সিরিয়াসলি দেখতে চাইছেন, তাঁদের সেই দেখাতেও তো ব্য়ঘাত ঘটছে। তাঁরাও একবার নয়, বারবার বিরক্ত হচ্ছেন।”

” সিনেমায় ‘একেনবাবু’ হিসেবে বিখ্যাত হয়ে ওঠা আদতে মঞ্চের দাপুটে নায়ক বলে চলেন, “ছবির ক্ষেত্রে তো অভিনেতাদের কোনও সমস্যাই হয় না, কারণ সেটা তো লাইভ নয়। কিন্তু সেখানেও দেখবেন পাশে বসে কেউ কথা বললেন, ফোন বাজলে দর্শকেরা বিরক্ত হন। এটাই তো স্বাভাবিক। যে কোনও প্রেক্ষাগৃহে ঢোকার আগেই ফোনটা বন্ধ রাখা উচিত, এটা নূন্যতম ভদ্রতার মধ্যে পড়ে। শেখানোর কোনও দরকার নেই। তবুও আমাদের এখানে পাখি পড়ানোর মতো করে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে একজন চিৎকার করতে থাকেন, ফোন বন্ধ রাখুন, ফোন বন্ধ রাখুন…। তারপরেও যখন প্রথম একজনের ফোনটা বাজে, নাটক বন্ধ হয়ে যায়, তখনও তো আশা করা যায়, বাকিরা সচেতন হয়ে একটু দেখবেন, যে তাঁর ফোনটা আদপে বন্ধ বা সাইলেন্ট আছে তো? সেটাও যখন করেন না, সেই নাছোড় মনোভাবের মানসিকতাটা আমি বুঝতে পারি না। কেউ কী করে এতটা বেপরোয়া হতে পারে? আমি সত্যি বুঝতে পারি না, কোন বোধ থেকে মানুষ এমনটা করতে পারে।”

প্রসঙ্গত, কেবল দর্শক আসনের খারাপটাই তুলে ধরে প্রতিবাদ করলেন না অভিনেতা, পাশাপাশি দর্শকদের থেকে ভাল ব্যবহার ভালবাসা পেয়ে, তাতেও কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেন না তিনি। রবিবারের প্রতিবাদী ফেসবুক পোস্টের আগে অন্য একটি শো-এর প্রসঙ্গে স্টেটাস আপডেট শেয়ার করেছিলেন অনির্বাণ: ‘কল্যাণীতে নাটকের শো করলাম। একবারও মোবাইল বাজলো না। দর্শক সচেতন হলে এটা সম্ভব। ধন্যবাদ।’

Follow Us