সারা পৃথিবীতে প্রচুর সংখ্যক মানুষ প্রতি বছর এইডস রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান। অসুরক্ষিত যৌনজীবন, ওরাল সেক্স আরও নানান কারণের জন্য এইডসের প্রাদুর্ভাব হতে পারে। ১৯৮১ সালে প্রথম এই রোগ ধরা পড়ে বলে জানা যায়। আজ ২০২১। এতগুলো বছর পেরিয়ে এসেও কি আমরা নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিতে পেরেছি?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, ২০২০ সালের শেষ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ মারা গিয়েছে। ২০২০ সালে, ৬৮হাজার মানুষ এইচআইভি-সম্পর্কিত কারণে মারা গিয়েছিল। এই পরিসংখ্যানগুলো কোথাও হয়তো যথেষ্ট নয় আমাদের সচেতনতা বাড়িয়ে তুলতে। সুরক্ষিত যৌনজীবন আমাদের আগামীকে যে সুরক্ষিত করতে পারে, সেটা ভারতীয় পুরুষরা মেনে নিতে পারেন না। সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে ৯৪.৪ শতাংশ তা করেন না।
এটা কোনও দৃষ্টিভঙ্গি বা মন্তব্য নয়। আসলে এমন অনেক সময় দেখা গেছে যে ভারতীয় পুরুষরা পরিবারের কথা বা নিজের স্বাস্থ্যের কথা না ভেবেই নিরাপত্তা ছাড়াই সঙ্গমে লিপ্ত হয়ে থাকেন। ভারতীয় পুরুষরা কনডমের তাৎপর্য কিন্তু বোঝেন। ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে দেখিয়েছে যে ৯৭.৯ শতাংশ পুরুষ যারা যৌনভাবে সক্রিয় তারা কনডমের গুরুত্ব জানে। অন্যদিকে সামগ্রিকভাবে ভারতের ৯৪ শতাংশ পুরুষ কনডম ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন।
কিন্তু ভারতীয় পুরুষরাদের বেশিরভাগি আত্মকেন্দ্রিক। তাদের মানসিকতা অনেকটাই পিতৃতন্ত্র আর আধিপত্যে ডুবে আছে। তারা কিন্তু জানে কনডমের গুরুত্বপূর্ণতা কতটা কিন্তু সেই বিষয়ে তারা সামগ্রিকভাবে মারাত্মক উদাসীন। কনডমকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য আজকাল ব্র্যান্ডের দ্বারা তৈরি ডিজাইন, নানান ধরনের ফ্লেভার, এই সব কিছুই কোথাও গিয়ে নিরর্থক হয়ে যাচ্ছে।
তাই, এটা কোন রকেট সায়েন্স নয় যে বোঝা যাবে না ভারতের জনসংখ্যা শুধু বোমার মতোই বিস্ফোরিত হচ্ছে না এখানে এইডস রোগেরও মারাত্মক প্রতিপত্তি ঘটে চলেছে। জাতিসংঘ একটি প্রতিবেদনে অনুমান করেছিল যে ২০২৭ সালের মধ্যে, ভারত চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে পরিণত হবে। সুতরাং, একইসঙ্গে এইডস রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে।
ভারতের স্বাস্থ্যের অবস্থার উপর ন্যাশনাল হেলথ প্রোফাইল ২০১৮ এবং ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভেতে (২০১৫-২০১৬) দেখায় যে প্রায় ৯৫ শতাংশ বিবাহিত দম্পতি কনডম ব্যবহার করেন না। অন্ধ্র প্রদেশে কনডম ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে কম। সেখানে শুধুমাত্র ০.২ শতাংশ পুরুষ কনডম ব্যবহার করেন। এর পরেই রয়েছে তেলেঙ্গানা (০.৫ শতাংশ), তামিলনাড়ু (০.৮ শতাংশ), বিহার (১ শতাংশ) এবং কর্ণাটক (১.৩ শতাংশ)।
ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে কনডম ব্যবহার করার প্রতি অনীহা আরও একটা পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়। রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে (চন্ডিগড়) প্রায় ৭৩ শতাংশ পুরুষ কনডম ব্যবহার করেন না। ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতে অর্থাৎ পাকিস্তান (৯.৯ শতাংশ), মালদ্বীপ (১১.৭ শতাংশ), ইরান (১৩.৭ শতাংশ), শ্রীলঙ্কা (৬.১ শতাংশ) এবং চীন (৮.৩ শতাংশ) কন্ডোম ব্যবহারের প্রবণতা বেশি।
পুরুষরা কনডম ব্যবহার না করলে কী হয়?
দুটি জিনিস ঘটতে পারে:
১) আপনি একটি নতুন প্রাণের জন্ম দিতে পারেন,
২) আপনি একটি যৌনবাহিত রোগ (STD) পেতে পারেন।
এবার আপনি কোনটা বেছে নেবেন সেটা আপনার সিদ্ধান্ত। তবে, নিজের সুরক্ষার স্বার্থে কনডমের ব্যবহার করা ভীষণ প্রয়োজন। আমাদের কাছে আমাদের স্বাস্থ্য চিন্তা প্রাথমিক কবে হবে সেটা যদিও অনিশ্চিত।
আরও পড়ুন: Ring Worm: দাদের সমস্যায় নাজেহাল হয়ে উঠেছেন? এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো মেনে চললে দাদের নিরাময় সম্ভব…