
নয়া দিল্লি : শনিবার নয়া দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা (Fumio Kishida)। জাপানের প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের সফরের জন্য ভারতে এসেছেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আলোচনার বিষয়ের মধ্যে ছিল দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক। জাপানের প্রধানমন্ত্রী কিশিদার সফরের আগেই জাপানের একটি সংবাদপত্র জানিয়েছিল যে এই সফরকালীন কিশিদা ভারতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ৪২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের একটি প্রকল্প ঘোষণা করতে পারেন। সেই খবরই সত্যি হল। এদিনের বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন যে আগামী পাঁচ বছরে ৩.২ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ করছে জাপান।
তিনি ৩০০ বিলিয়ন ইয়েন দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেবেন এবং কার্বন হ্রাস সম্পর্কিত একটি শক্তি সহযোগিতা নথিতেও স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অফিস টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে টুইট করে জানানো হয়েছে, “জাপানের সঙ্গে বন্ধুত্বের অগ্রগতি। প্রধানমন্ত্রী এবং নয়া দিল্লিতে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। উভয় নেতা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।” উল্লেখ্য, ইউক্রেন সংকটের মধ্যেই এই বৈঠকের গুরুত্ব অপরিসীম। জাপান এবং ভারত কোয়াড জোটের সদস্য। এই কোয়াডে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়াও।
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং সাধারণ বৈঠকে আনা রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাবে ভোটদান থেকে বিরত ছিল। যেখানে কোয়াডের এক সদস্য় আমেরিকা এই প্রস্তাব এনেছিল। এবং বাকি সদস্য সেখানে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল। সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কিশিদার সফরের আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন যে রাশিয়ার সঙ্গে দিল্লির ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং এর ভৌগলিক অবস্থান সম্পর্কে টোকিও “সচেতন” ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, “তবে একই সময়ে আমরা মৌলিক মূল্যবোধ এবং কৌশলগত স্বার্থ শেয়ার করি তাই স্বাভাবিকভাবেই আমরা ইউক্রেনের পরিস্থিতিকে কীভাবে দেখছি সে সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা হবে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছ থেকেও অনুরূপ ব্যাখ্যা শোনার আশা করি।”
আরও পড়ুন : Sanjay Raut On AIMIM : ‘বিজেপির বি-টিম,’ এআইএমআইএম-র জোটের আশায় জল ঢাললেন শিবসেনা নেতা