Asaduddin Owaisi: ‘একজন মুসলিম নেতা প্রয়োজন’, হুমায়ুনকে পাশে বসিয়ে মমতাকে নিশানা ওয়েইসির
West Bengal assembly election: সাংবাদিক বৈঠকেই মমতাকে নিশানা করেন ওয়েইসি। বলেন, "সোমনাথদা (সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়) যখন স্পিকার ছিলেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুপ্রবেশ নিয়ে সংসদে বলেছিলেন। আপনি বাংলায় বিজেপিকে বাড়তে দিয়েছেন। ৩ থেকে ৭৭ হয়েছে। আপনি দলে নিয়েছেন বলে আমরা বাবুল সুপ্রিয়র ঘৃণা ভাষণ ভুলে যাব?"

কলকাতা: ৫ বছর আগে বাংলায় আইএসএফের সঙ্গে জোট করতে চেয়েছিলেন তিনি। ফুরফুরা শরিফে গিয়ে আইএসএফের প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন। কিন্তু, সেই জোট শেষ পর্যন্ত হয়নি। আর পাঁচ বছর পর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র সঙ্গে জোট করেছে তাঁর দল। আর সেই জোট নিয়ে বার্তা দিতেই কলকাতায় এসেছেন মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। বুধবার কলকাতায় হুমায়ুনকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন মিম প্রধান। বাংলায় একজন মুসলিম নেতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করলেন।
গত কয়েকমাসে মালদহ, মুর্শিদাবাদ-সহ মুসলিম প্রভাবিত জেলায় মিমের শক্তি ক্রমশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন দল গড়ে হুমায়ুন কবীরও মিমের সঙ্গে জোট করতে আগ্রহ দেখান। পাঁচ বছর আগে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালেই আইএসএফ গঠন করেছিলেন আব্বাস সিদ্দিকী। সেইসময় তাঁর দলের সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী ছিলেন ওয়েইসি। কিন্তু, মিমের সঙ্গে জোট হলে বাম ও কংগ্রেসের জোটে থাকা হত না আইএসএফের। ফলে ওয়েইসি ফুরফুরা শরিফ ঘুরে গেলেও আব্বাসের দলের সঙ্গে মিমের জোট হয়নি।
এবারের নির্বাচনে নতুন দল গঠনের পর হুমায়ুনও বাম, আইএসএফ-কে জোটবার্তা দিয়েছিলেন। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম তাঁর সঙ্গে বৈঠক করলেও জোট হয়নি। কোনও দলের সঙ্গে জোট না হওয়ার পরই মিমের হাত ধরেছে হুমায়ুনের দল। মিম ও AJUP-র জোট নিয়ে বার্তা দিয়ে কলকাতায় এসেছেন ওয়েইসি। এদিন দুই দলের দুই প্রধান ওয়েইসি ও হুমায়ুন সাংবাদিক বৈঠক করেন। আর এই সাংবাদিক বৈঠকেই মমতাকে নিশানা করেন ওয়েইসি। বলেন, “সোমনাথদা (সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়) যখন স্পিকার ছিলেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুপ্রবেশ নিয়ে সংসদে বলেছিলেন। আপনি বাংলায় বিজেপিকে বাড়তে দিয়েছেন। ৩ থেকে ৭৭ হয়েছে। আপনি দলে নিয়েছেন বলে আমরা বাবুল সুপ্রিয়র ঘৃণা ভাষণ ভুলে যাব?”
সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে সরকার সচেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করে ওয়েইসি বলেন, “এই ভুল বামফ্রন্টও করেছিল। তারা চলে গিয়েছে, এরা বসেছে। ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করছে।” সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে একজন মুসলিম নেতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে ওয়েইসি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইদের নামাজে অংশ নিলেও মুসলমানদের সার্বিক উন্নতি করেননি। তাই একজন মুসলিম নেতা প্রয়োজন। তিনি হুমায়ুন কবীর।”
হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তাঁর অনেক দিনের সম্পর্ক জানিয় মিম সুপ্রিমো বলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য লড়াই করছি।” তিনি জানান, হুমায়ুন কবীরই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী। মিম ও হুমায়ুনের জোটে হুমায়ুনই বড় শরিক।
বেশ কয়েকটি আসনে লড়বে মিম। ওয়েইসি দাবি করেন, তাঁরা ভোটকাটুয়া নন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করছেন, বিজেপির থেকে ফান্ড পাচ্ছে হুমায়ুনের দল। এই নিয়ে ওয়েইসি বলেন, বিজেপির ফান্ড আসে প্রমাণ করতে পারলে ৯০ শতাংশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে দেওয়া হবে। ৫ শতাংশ হুমায়ুন পাবেন। আর ৫ শতাংশ তাঁরা নেবেন। হুমায়ুনের দল এবারের নির্বাচনে হুইসেল প্রতীকে লড়বে। সেই প্রতীকের এদিন উন্মোচন করেন ওয়েইসি।
