কলকাতা: এ যেন বিয়ের আগেই বৌভাত! রাজ্যের প্রথম দফার নির্বাচনের পর তৃণমূলের বিজয় মিছিল দেখে এমনটাই মনে হচ্ছে অনেকের। বাংলার নির্বাচনের ইতিহাসে এমন ঘটনা এর আগে কবে দেখা গিয়েছে মনে করতে পারছেন না কেউই। ভোট চলাকালীন সময়ে তৃণমূল ভবনে রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা জানিয়ে দিলেন মোদীর মন্ত্রী হেরে গিয়েছেন। তারপরই এলেন আরেক মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তার মুখেও একই সুর। শুধু তাই না সাংবাদিক বৈঠক শুরু করার আগে গানের তালে নেচে উঠলেন রাজ্যের দুই শীর্ষ মন্ত্রী। টিভির পর্দায় তখন নাচের তালে পা মিলিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। আর তারপরই ভোট মিটতেই বিজয় মিছিল। তিন জেলায়। একেবারে সাজিয়ে গুছিয়ে। একই সময়ে। আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন।
এমন ঘটনা ঘটানো হল কেন? মানুষের রায় ঘোষণার আগে কেন এমন উদ্যোগ? তবে কী দীর্ঘমেয়াদি ভোটে কর্মীদের মনোবল ধরে রাখতেই এই গেম প্ল্যান? এটা কী তৃণমূলের নতুন স্ট্র্যাটেজি? না হলে এমন সংগঠিত উদ্যোগ কেন? প্রশ্নগুলি ঘোরাফেরা করছে রাজনৈতিক মহলের অনাচে-কানাচে।
তৃণমূলের দাবি অবশ্যই অন্য। নেতারা বলছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জয় হয়েছে। মহিলাদের অংশগ্রহণ তৃণমূলের জয় নিশ্চিত করেছে। এমনটাই তাদের গ্রাউন্ড রিপোর্ট। ওয়াকিবহাল মহলের একটা বড় অংশের মতে রাজ্যের তরফে একশো দিনের টাকা দেওয়া। মে মাসের পর কেন্দ্র না দিলে আবাসের টাকা দেওয়ার ঘোষণা গ্রামের ভোট ব্যাঙ্ককে সংগঠিত করেছে তৃণমূলের দিকে। তৃণমূলের উত্তরের নেতারা আরও বলছেন চা বাগানের পাট্টা, চা সুন্দরী প্রকল্পও তৃণমূলের সহায়ক হয়েছে। তাই জয় নিশ্চিত। তাই বলে বিজয় মিছিল? অভূতপূর্ব এমন ঘটনা ঘিরে এখন জোর চর্চা বঙ্গ রাজনীতির আঙিনায়।