কলকাতা : ২০২৪ সালে দিল্লির মহারণের আগে নিজের দলের সর্বভারতীয় অস্তিত্ব প্রমাণে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Trinamool Congress Supremo Mamata Banerjee)। ইতিমধ্যেই ইউপিএ জোটের কথা অস্বীকার করেছেন তিনি। বরং নতুন কোনও বিকল্প জোটের ইঙ্গিত দিচ্ছেন মমতা। সেখানে অবশ্য কংগ্রেসের জন্যও দরজা খোলা রাখছেন তিনি। তবে চালকের আসন গান্ধীদের হাতে ছেড়ে দিতে চাইছেন না তিনি। আজ তৃণমূলের মুখপত্র জাগো বাংলায় তা আরও একবার চাঁচাছোলা ভাষায় কংগ্রেসকে আক্রমণ শানাল জোড়াফুল।
তৃণমূলের মুখপত্রে আজ লেখা হয়েছে, কংগ্রেস নাকি এখন ডিপ ফ্রিজে চলে গিয়েছে। আর সেই কারণে, কংগ্রেসে বদলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই যে বিরোধী জোটের মুখ হতে প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত, সেই কথাও আজ আরও একবার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। জাগো বাংলার ওই সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, বিরোধী নেতারাই মমতাকে বিকল্প বিরোধী জোট গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মুম্বই গিয়ে এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন মমতা। আর তারপরেই জাগো বাংলার সম্পাদকীয়তে এই কথা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আজ জাগো বাংলায় ডিপ ফ্রিজে কংগ্রেস শীর্ষক সম্পাদকীয় কলমে কংগ্রেসের ধারাবাহিক ব্যর্থতার জন্য এবং নেতৃত্বের অপরিণামদর্শিতার জন্য সরাসরি রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করা হয়েছে। আর এবার তপ্ত আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বেশি। লেখা হয়েছে, “তৃণমূল কংগ্রেস বহুদিন থেকেই বলছে কংগ্রেস ব্যর্থ। ইউপিএ শেষ। বিরোধী জোট দরকার। দলীয় কোন্দল এবং রক্ত ক্ষরণে কংগ্রেস এতটাই বিদীর্ণ যে দল ধরে রাখাই সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”
সেখানে উদাহরণ হিসেবে পঞ্জাব, গোয়া এবং ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। তৃণমূল মুখপত্রের সম্পাদকীয়তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “সাম্প্রদায়িক, অগণতান্ত্রিক, জন বিরোধী, শ্রমিক বিরোধী, কৃষক বিরোধী শক্তি বিজেপিকে হারানোর জন্য বিকল্প জোটের আশু প্রয়োজন। সবথেকে বড় বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেস যেন পার্টিকে ডিপ ফ্রিজে বন্দী করে রেখেছে। সামান্য লোক দেখানো আন্দোলন ছাড়া, নেতারা কার্যত ট্যুইট সর্বস্ব।”
উল্লেখ্য, দলীয় মুখপত্রে এর আগেও কংগ্রেসকে বিঁধেছিল তৃণমূল। তখনও বলা হয়েছিল, কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে তাঁদের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু মুখ থাকবেন মমতাই। সেপ্টেম্বরের ওই সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছিল, ‘কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে আমরা কখনওই বিজেপি বিরোধী বিকল্প বলছি না। কিন্তু রাহুল গান্ধী এখনও নরেন্দ্র মোদীর বিকল্প মুখ হয়ে উঠতে পারেননি। দেশের বিকল্প মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা বিকল্প হিসাবে জননেত্রীর মুখ সামনে রেখেই গোটা দেশে প্রচার শুরু করব।’