আকন্দ ফুল ছাড়া ও এই গাঠের পাতা, বীজ, ছাল, সিকর সবই ভেষজ গুণের জন্য প্রসিদ্ধ। তবে একটাই আফসোস, এই গাছের ব্যবহার গ্রামবাংলায় যত্রতত্র গজিয়ে উঠলেও, অজান্তেই তা হারিয়ে যেতে বসেছে।এই গাছের ভেষজ গুণাগুণ অনেক বেশি হলেও সচেতনতার অভাবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি।
এই গাছের পাত মোটামুটি ৪ থেকে ৮ ইঞ্চির মত দৈর্ঘ্য হয়ে থাকে। উপরিভাগ বেশ মসৃণ। তবে পাতার নীচের দিকটি তুলোর মত কতকটা। গাছের পাতা ভাঙলে দুধের মত সাদা আঠা বের হয়। এই আঠা বেশ রোগমুক্তির জন্য ব্যবহার করা হলেও অতিরিক্ত ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
আকন্দ গাছে গ্রামবাংলার একটি অতিপরিচিত উদ্বিদ। বর্ষাকালে বিশেষ করে এর নজরে পড়ে। গ্যাস, অম্বল, গাঁটে ব্যথা, অর্শের সমস্যা সমাধানে, ব্যথার উপশম পেতে এই গাছের পাতা ব্যবহার করার পরামর্শ দেন আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা।
হাত-পা মচকে গেলে বা পা ফুলে ব্যথা তৈরি হলে আকন্দ পাতা গরম করে সেঁকে দিলে, ব্যথা নিরাময় হয়। বাতের ব্যথা বাড়লে আকন্দ গাছের পাতা ও আঠা মিশিয়ে একটি পেস্ট বানাতে পারেন। তার সঙ্গে সামান্য পরিমাণ সরষের তেল মিশিয়ে ব্যথার জায়গায় প্রলেপ লাগিয়ে দিতে পারেন।
যাঁরা অর্শের সমস্যা ভুগছেন তাঁদের জন্য আকন্দ পাতা বিভিন্ন ভাবে কাজে লাগাতে পারেন। আকন্দ গাছের পাতা গুঁড়ো করে তা আগুনে পুড়িয়ে সেই উষ্ণতা ক্ষতের জায়গায় প্রয়োগ করলে অনেকটা স্বস্তি পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, ফিসচুলা থাকলে তার উপশম হয় দ্রুত।
আকন্দ গাছের পাতার গুণে মুখের ত্বকে ব্রণের প্রবণতা কমে যায়। যারা যারা ব্রণর সমস্যায় ভুগছেন তারা পাতা দিয়ে ব্রণের উপর চেপে ধরতে পাকেন। তাতে সমস্যার সমাধান হয়। এমনটা আবার অথর্বেদে উল্লেখ রয়েছে।
বিষাক্ত পোকাপাকড় থেকে রেহাই পেতে হলে এই গাছের পাতা ও আঠা মিশিয়ে একটি মিশ্রণ বানান। পাতা বেটে লাগালে দ্রুত জ্বালা-যন্ত্রণা কমে যায়।
দাঁতের ব্যথা কাবু? প্রচণ্ড দাঁতে ব্য়থা হলে আকন্দের পাতা বেটে লাগাতে পারেন। তুলোয় ভিজিয়ে সেই পেস্ট দাঁতের গোড়ায় ব্যবহার করুন। নিমেষের মধ্যে ব্যথা হবে দূর।