ভেজানো আমন্ড সবসময় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আমন্ড ভিজিয়ে খেলে তবেই এর সমস্ত পুষ্টি পাওয়া যায়। কিন্তু আমন্ড ভেজানোর সঠিক উপায়, জানেন কি? না জেনে ভুল করে বসলে আপনারই ক্ষতি।
আমন্ড জলে ভিজিয়ে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে না। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি সহজেই কমানো যায়।
আমন্ডের মধ্যে ভিটামিন ই, প্রোটিন, ফাইবার, ম্যাগনেসিয়ামের মতো একাধিক পুষ্টি পাওয়া যায়। এগুলো হৃদরোগ, ক্যানসার, সুগারের মতো রোগকে দূরে রাখার পাশাপাশি মেজাজকে উন্নত করতে সাহায্য করে।
রোজ সকালে খালি পেটে ৫-৬টি ভেজানো আমন্ড খাওয়া দরকার। কিন্তু আমন্ড সঠিক উপায়ে না ভেজালে কোনও উপকারই পাবেন না। বরং, হজমের গণ্ডগোল দেখা দিতে পারে।
আমন্ড ভিজিয়ে রাখলে এর মধ্যে থাকা এনজাইম সক্রিয় হয়ে যায়, যা আমন্ডের খোসায় পাওয়া ফাইটিক অ্যাসিড ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে। ফাইটিক অ্যাসিড আয়রন, জিঙ্ক এবং ক্যালসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টির শোষণ বাধা তৈরি করে।
আমন্ড ভিজিয়ে রাখলে খোসায় ফাইটিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমে যায়। এতে আমন্ড খেলে এর সমস্ত পুষ্টি পাওয়া যায়। এছাড়া আমন্ড ভিজিয়ে রাখলে চিবানো সহজ হয়। এতে বাদাম হজম করাও সহজ হয়। পাচনতন্ত্রের সমস্যা থাকলে আমন্ড ভিজিয়ে খেলে পেটের অস্বস্তি কমে।
আমন্ডের খোসায় অনেক ধরনের ময়লা থাকে। জলে ভিজিয়ে রাখলে সেগুলো ধুয়ে চলে যায়। আমন্ড সবসময় পরিষ্কার জলে ভেজাবেন। আমন্ড কমপক্ষে ৮-১২ ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখা দরকার। এতে আমন্ড পর্যাপ্ত পরিমাণে হাইড্রেটেড হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমন্ড ভেজানোর সময় এনজাইমগুলিকে অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্ট ভেঙে দেয়। এটি সামগ্রিক হজম ক্ষমতা এবং বাদামের পুষ্টি শোষণকে উন্নত করে। শুধু আমন্ড ভেজানো সময় খেয়াল রাখুন যে, আমন্ডগুলো সম্পূর্ণরূপে জলে ডুবে গিয়েছে।